
যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজকীয় আয়োজনে ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই)’ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট হিসাবরক্ষক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক আবু তাহের।
বুধবার (১৩ মে) ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়াম তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা তুলে দেন।
দীর্ঘদিনের পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত করে।
রাজকীয় পরিবেশে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবু তাহেরের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিতা তাহের, মেয়ে অনিকা তাহের ও ছেলে তামিম তাহের। পরিবারের উপস্থিতিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও স্মরণীয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আবু তাহের বলেন, ‘এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি এ অর্জন পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটির মানুষদের উৎসর্গ করছি।’
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবু তাহের ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে দক্ষ ও পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে প্রতিষ্ঠা করেন মাহি অ্যান্ড কো সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক পরামর্শ এবং হিসাবরক্ষণ সেবা দিয়ে সুপরিচিতি লাভ করেছে।
তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ফেলো সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংহতি লিটারারি সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি থেকে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে নিয়মিত কবিতা উৎসব, সাহিত্যসভা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসিত আবু তাহের। মাসুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন টি-ফাইভ টেইলারিং ট্রেনিং সেন্টার, যেখানে সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন তিনি।
প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব আয়োজনেও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। বর্তমানে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘হেভেন কেয়ার হোম’ নামের নতুন একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদান রেখে চলা আবু তাহের-এর এই অর্জনকে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গর্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।