
লন্ডনে শনিবার একযোগে দুটি বড় বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একদিকে ছিল কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” সমাবেশ, অন্যদিকে ছিল ফিলিস্তিনপন্থী “নাকবা দিবস” উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রায় ৪ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করেছে। পুলিশ ড্রোন, ঘোড়সওয়ার ইউনিট, পুলিশ কুকুর এবং সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রেখেছে। দুই পক্ষের মিছিলের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে একটি বিশেষ “স্টেরাইল জোন” তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ এটিকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় নিরাপত্তা অভিযান বলে উল্লেখ করেছে।
“ইউনাইট দ্য কিংডম” মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কিংসওয়ে থেকে হোয়াইটহল হয়ে পার্লামেন্ট স্কোয়ারের দিকে যান। সেখানে অনেককে ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা হাতে দেখা যায়। “উই ওয়ান্ট স্টারমার আউট” স্লোগানও শোনা যায়। কেউ কেউ “মেক ইংল্যান্ড গ্রেট অ্যাগেইন” লেখা লাল টুপি পরে ছিলেন।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা কেনসিংটন থেকে পিকাডিলি হয়ে ওয়াটারলু প্লেস পর্যন্ত মিছিল করেন। তারা “স্ম্যাশ দ্য ফার রাইট” এবং “ফ্রি প্যালেস্টিনিয়ান হোস্টেজেস” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেককে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির প্রতীক কেফিয়েহ পরতে দেখা যায়।
“নাকবা দিবস” মূলত ১৯৪৮-৪৯ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে পালিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত অন্তত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে ইউস্টন রেলস্টেশনের কাছে গুরুতর হামলার অভিযোগে আটক করা হয়। পুলিশ প্রথমবারের মতো বিক্ষোভে “লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন” প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে, বিশেষ করে ইউস্টন রেলস্টেশন এবং কিংস ক্রস সেন্ট প্যানক্রাস রেলস্টেশন এলাকায়।
এদিকে শনিবার এফএ কাপ ফাইনাল উপলক্ষে হাজার হাজার ফুটবল সমর্থকও ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ায় লন্ডনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও বলেন, “আজ বিভেদের কণ্ঠস্বর জোরালো হবে, কিন্তু তারা ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করে না।”
অন্যদিকে, স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আজ আমরা যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমাকে ঐক্যবদ্ধ করব।”
সরকার জানিয়েছে, “ইউনাইট দ্য কিংডম” সমাবেশে যোগ দিতে আসা ১১ জন বিদেশি কট্টর ডানপন্থী কর্মীকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন ইসলামবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্তিনা গোমেজও রয়েছেন।
এদিকে, নতুন নির্দেশিকায় ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিক্ষোভের স্লোগান, ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড যদি ঘৃণা ছড়ানোর পর্যায়ে পড়ে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সরকারের স্বাধীন ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী উপদেষ্টা লর্ড ম্যান বলেছেন, বড় জনসমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য আইনসীমার মধ্যে রাখার দায়িত্ব আয়োজকদেরও নিতে হবে।