যুক্তরাজ্য

১৮ মে ২০২৬, ১৮:০৫
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে কড়াকড়ি আসছে ইলেক্ট্রিক বাইকে

15476_a-police-officer-stopping-an-electric-bike Medium.jpg

যুক্তরাজ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইক নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে ই-বাইক ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পরিবহন নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা পার্লামেন্টারি অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ফর ট্রান্সপোর্ট সেফটি (প্যাক্টস) সরকারের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অবৈধ ই-বাইক সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বৈধ ই-বাইকের জন্য নির্ধারিত ইলেকট্রিক্যালি অ্যাসিস্টেড পেডাল সাইকেল (ইএপিসি) নীতিমালার বাইরে থাকা যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। আইন অনুযায়ী, একটি ই-বাইকের মোটর সহায়তার সর্বোচ্চ গতি হতে পারবে ঘণ্টায় ১৫ দশমিক ৫ মাইল এবং মোটরের ক্ষমতা ২৫০ ওয়াটের বেশি হওয়া যাবে না। এছাড়া চালকের বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সীমার ওপরে মোটরচালিত সহায়তা পেতে হলে প্যাডেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে এমন অনেক ই-বাইক দেখা যাচ্ছে, যেগুলো এসব নিয়ম মানছে না। বিশেষ করে গিগ ইকোনমিভিত্তিক ডেলিভারি কর্মীদের মধ্যে অবৈধ উচ্চগতির ই-বাইকের ব্যবহার বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শহরাঞ্চলে দুর্ঘটনা ও পথচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যন্ত্রাংশ কিনে অনেকেই নিজস্বভাবে ই-বাইক তৈরি করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ ই-বাইক এভাবে তৈরি। তবে এর মধ্যে কতগুলো আইনসিদ্ধ গতিসীমা অতিক্রম করছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।

নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি বীমাহীন অবৈধ ই-বাইকের কারণে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালক শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাজধানীতে ই-বাইকের কারণে ১৭০টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনীকে কাজ করতে হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

এ পরিস্থিতিতে সরকার ইতোমধ্যে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পণ্যের নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি নীতিমালায় পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ শুরু করেছে। মোটরসাইকেল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টনি ক্যাম্পবেল বলেন, অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ই-বাইক বাজারকে বিকৃত করছে এবং নিরাপত্তা মেনে চলা বৈধ নির্মাতা ও বিক্রেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তার মতে, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক আইন প্রয়োগ এবং গিগ ইকোনমিতে অনিরাপদ যান ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে নতুন নীতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই পরামর্শ প্রক্রিয়া বৈধ ব্যবসা, পথচারী ও চালকদের সুরক্ষায় স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণের একটি বড় সুযোগ।

প্যাক্টসও সরকারের প্রতি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, অবৈধ ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দৃশ্যমান নজরদারি এবং জাতীয় পর্যায়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও