
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের (মেট পুলিশ) সঙ্গে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিসের প্রস্তাবিত প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি চুক্তি আটকে দিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মেট পুলিশ অত্যাধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স ও এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে অপরাধ তদন্ত, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে চেয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্যালান্টিরের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ পুলিশি তথ্য, নজরদারি ডেটা, অপরাধ রেকর্ড এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট একত্রে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতো।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, এই প্রযুক্তি জটিল অপরাধ চক্র শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করা এবং দ্রুত তদন্ত পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
তবে সিটি হলের পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুরো চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেট পুলিশ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের পরিবর্তে মূলত প্যালান্টিরের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনা চালিয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়নীতির নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং করদাতাদের অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ কারণে মেয়র সাদিক খান চুক্তিটি অনুমোদন না দিয়ে তা স্থগিত করেন। তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
প্যালান্টির টেকনোলজিস মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেটা অ্যানালিটিক্স ও এআই কোম্পানি, যা সামরিক, গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা খাতে উন্নত সফটওয়্যার সরবরাহের জন্য পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।
তবে মানবাধিকার ও গোপনীয়তা রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই প্যালান্টিরের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি অতিরিক্ত নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং এআই-নির্ভর পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদিক খানের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি চুক্তি আটকে দেওয়ার ঘটনা নয়; বরং এটি সরকারি খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে চুক্তিটি স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যতে নতুন শর্তে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে বলে জানা গেছে।