যুক্তরাজ্য

২১ মে ২০২৬, ১৯:০৫
আরও খবর

‘ফলস উইডো’ মাকড়সার কামড়ে ব্রিটিশ ব্যক্তির বুকে ভয়াবহ গর্ত

15514_090.jpg

যুক্তরাজ্যে ‘ফলস উইডো’ নামে পরিচিত বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে এক ব্যক্তির বুকে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লন্ডনের পূর্বাঞ্চলীয় রদারহাইথ এলাকার বাসিন্দা অ্যাড্রিয়ান মার্টেল দাবি করেছেন, তার MINI কনভার্টিবল গাড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি মাকড়সার কামড় থেকেই এই গুরুতর সংক্রমণের সূত্রপাত।

৪৯ বছর বয়সী যোগ প্রশিক্ষক ও সার্কাস পারফর্মার অ্যাড্রিয়ান মার্টেল জানান, গত ৭ এপ্রিল তার বুকের বাঁ পাশে প্রথমে হালকা চুলকানি অনুভূত হয়। পরদিন সেখানে একটি ছোট ফোলা অংশ দেখা দেয়। শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ চর্মরোগ মনে করলেও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

তিনি চিকিৎসার জন্য জরুরি সেবা কেন্দ্রে গেলে চিকিৎসকেরা এটিকে “ইনগ্রোন হেয়ার” বা ভেতরে ঢুকে যাওয়া লোমজনিত সমস্যা বলে মনে করেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই ফোলা অংশটি কালো হয়ে যায় এবং সেখানে গভীর গর্তের মতো ক্ষত সৃষ্টি হয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে তিনি হাসপাতালে যান। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন এবং তার বুক থেকে প্রায় ৫০ পেন্স মুদ্রার সমান আকারের সংক্রমিত চামড়া অপসারণ করেন।

মার্টেলের ধারণা, গাড়ির সিটবেল্টের নিচে থাকা মাকড়সাটি চাপা পড়ে তাকে কামড় দেয়। কারণ ক্ষতটির অবস্থান ঠিক সেখানেই ছিল, যেখানে সিটবেল্ট বুকের সঙ্গে লেগে থাকে।

তিনি বলেন, “প্রথমে শুধু চুলকানি হচ্ছিল। পরে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে যোগব্যায়াম শেখানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকদিনের মধ্যে ক্ষতটি ভয়াবহ আকার নেয় এবং পুঁজ বের হতে শুরু করে।”

তিনি আরও জানান, অস্ত্রোপচারের আগের রাতে তার জ্বর ও দুর্বলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিতভাবে মাকড়সার কামড় বলতে না পারলেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে মাকড়সার কামড়জনিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ছিল ৪৭টি, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০-তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ‘নোবল ফলস উইডো’ মাকড়সার সংখ্যা বাড়তে থাকাই এর অন্যতম কারণ।

‘নোবল ফলস উইডো’ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক মাকড়সা হিসেবে পরিচিত। ১৯শ শতকে মাদেইরা ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে এটি দুর্ঘটনাবশত ব্রিটেনে আসে এবং পরে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বিস্তার লাভ করে। স্ত্রী মাকড়সাগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং তাদের শরীরে খুলি সদৃশ বিশেষ দাগ দেখা যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ ও হার্টফোর্ড কলেজের শিক্ষক ক্লাইভ হ্যাম্বলার বলেন, “ব্রিটেনে মাকড়সাকে পুরোপুরি নিরীহ ভাবার দিন শেষ হয়ে গেছে।”

ঘটনার পর থেকে নিজের বাড়ির সব মাকড়সার জাল পরিষ্কার করে ফেলছেন মার্টেল। তিনি বলেন, “আগে কখনও ভাবিনি এমন কিছু আমার সঙ্গে ঘটতে পারে।”

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও