
ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজের কথিত ফোন হ্যাকিং ইস্যু নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফারাজ দাবি করেছিলেন, রাশিয়া-সমর্থিত হ্যাকাররা তার ফোনে প্রবেশ করেছিল এবং সেখান থেকেই তার একটি বিতর্কিত £৫ মিলিয়ন অনুদানের তথ্য ফাঁস হয়। তবে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রমাণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার বিষয়টি সরাসরি পুলিশ ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার কাছে নিয়ে গেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি।
লেবার পার্টির চেয়ার আনা টার্লি জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে তিনি নিজেই মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার ভাষায়, “যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের মদদে হ্যাকিং হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং এটি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থার জন্যও বড় হুমকি।”
গত সপ্তাহে ফারাজ দাবি করেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী ও রিফর্ম ইউকের বড় দাতা ক্রিস্টোফার হারবর্নের দেওয়া £৫ মিলিয়নের উপহারের তথ্য তার ফোন হ্যাক হওয়ার কারণেই প্রকাশ্যে আসে। রিফর্ম ইউকে প্রথমে জানায়, বিষয়টি “প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষকে” জানানো হয়েছে। কিন্তু কাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা আর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
এ নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে যখন ফারাজ বলেন, তার ফোনটি পাল্টা গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করেছেন এবং তারা রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তবে ব্রিটেনের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন এই দাবি “সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটি ফোন পরীক্ষা করে রাশিয়া জড়িত ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এদিকে £৫ মিলিয়নের অনুদান নিয়েও ফারাজের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমদিকে তিনি দাবি করেছিলেন, অর্থটি ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া একটি নিঃশর্ত উপহার। পরে আবার তিনি বলেন, এটি ছিল ব্রেক্সিট প্রচারণায় ভূমিকার জন্য দেওয়া পুরস্কার। বিষয়টি এখন পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত করছে এবং সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আনা টার্লি এক চিঠিতে ফারাজকে লিখেছেন, এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, হারবর্ন কি ফারাজ বা রিফর্ম ইউকের অন্য কোনো রাজনীতিককে গোপনে আরও অর্থ দিয়েছেন কিনা।
রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলটির একজন মুখপাত্র আগেই বলেছিলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় এর বেশি মন্তব্য করা সমীচীন নয়।”
ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও নিশ্চিত করেনি যে তারা এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছে কিনা। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, “কোনো সাইবার ঘটনার অভিযোগ পেলে আমরা সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গণতন্ত্র রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার এবং অনলাইন হামলা থেকে সুরক্ষায় আমরা বিভিন্ন সহায়তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে থাকি।”