আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহু ‘বদ্ধ পাগল’, ‘সবাই তাকে ঘৃণা করে’:ট্রাম্প

15634_IMG_4518.jpeg

লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান জোরদারের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ পাগল’ এবং ‘সবাই তাকে ঘৃণা করে’ বলেছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈরুতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, লেবাননে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল আরও চাপে পড়বে। তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপ ইসরাইলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে।

 

মার্কিন সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, লেবাননে বেসামরিক মানুষের সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডারকে লক্ষ্য করে পুরো একটি ভবন ধ্বংসের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন তিনি। ফোনালাপের পর এক ইসরাইলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈরুতে নির্ধারিত একটি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ইসরাইল।

 

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলেও অতীতে একাধিকবার দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ এবং উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। অ্যাক্সিওসের দাবি, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই দুই নেতার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ফোনালাপগুলোর একটি।

 

তবে আলোচনার পর ট্রাম্প বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং বৈরুতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

ট্রাম্প আরও জানান, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই হামলা কমানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এই সমঝোতা কত দিন কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে তিনি সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এটিকে সংযম প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পিছপা হবে না ইসরাইল। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ সম্মতি দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরাইল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরাইলে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

 

যদিও এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও আঞ্চলিক সমঝোতার প্রচেষ্টার জন্য এই সংঘাত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও