
লন্ডনে ২৪ ঘণ্টার টিউব ধর্মঘট শুরু হয়েছে, যার ফলে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যাত্রী দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (আরএমটি) ইউনিয়নের আহ্বানে মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। একই ধরনের আরেকটি ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট আগামী ৪ জুনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কের বিভিন্ন লাইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। অনেক লাইনে সম্পূর্ণ সেবা বন্ধ রয়েছে, আবার কোথাও কোথাও বিলম্ব ও আংশিক স্থগিতাদেশ দেখা দিয়েছে। বেকারলু, সেন্ট্রাল, সার্কেল, ডিস্ট্রিক্ট, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড সিটি, মেট্রোপলিটন, নর্দার্ন, পিকাডিলি, ভিক্টোরিয়া, ওয়াটারলু অ্যান্ড সিটি এবং উইন্ডরাশ লাইনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
যদিও লন্ডনের বাস, ওভারগ্রাউন্ড, এলিজাবেথ লাইন, ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়ে (ডিএলআর) এবং ট্রাম পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে, তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে এসব সেবাতেও ভিড় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মঘটের মূল কারণ হলো টিউব চালকদের জন্য প্রস্তাবিত স্বেচ্ছাসেবী চার দিনের কর্মসপ্তাহ পরিকল্পনা। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) প্রস্তাব দিয়েছে যে চালকদের সাপ্তাহিক কাজের সময় ৩৬ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৫ ঘণ্টা করা হবে। তবে এর বিনিময়ে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা কিছুটা বাড়বে, ফলে তারা কম দিনে কাজ শেষ করতে পারবেন। নতুন ব্যবস্থায় বেতনভুক্ত খাবার বিরতির ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরএমটি ইউনিয়নের দাবি, এই পরিকল্পনার ফলে চালকদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হবে, যা অতিরিক্ত ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। ইউনিয়ন ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চায়, যাতে কর্মীরা সপ্তাহে চার দিন কাজ করেও বর্তমান বেতন সুবিধা বজায় রাখতে পারেন।
বর্তমানে বেকারলু লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে এই চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু রয়েছে এবং এর ফলাফল মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য লাইনে সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ধর্মঘটের আগে মধ্যস্থতাকারী সংস্থা অ্যাকাসের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আরএমটি মুখপাত্র বলেন, ক্লান্তি, কর্মঘণ্টার নমনীয়তা হ্রাস, দীর্ঘ শিফট এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়ে টিএফএল সন্তোষজনক আশ্বাস দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে টিএফএল ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, চার দিনের কর্মসপ্তাহ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী থাকবে বলে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও আরএমটি ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাত্রীদের জন্য যতটা সম্ভব সেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।
টিউব চালকদের আরেকটি বড় ইউনিয়ন অ্যাসলেফ (Aslef) অবশ্য এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউনিয়নটির দাবি, নতুন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী চালকরা বছরে অতিরিক্ত ৩৫ দিনের ছুটি পাবেন এবং এর বিনিময়ে কর্মপরিবেশে খুব সামান্য পরিবর্তন মেনে নিতে হবে। অ্যাসলেফের মতে, এটি শ্রমিকদের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
তবে আরএমটি ইউনিয়ন জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন এবং সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের স্বার্থেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
ধর্মঘটের কারণে আগামী কয়েক দিন লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।