
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার এবং জালিয়াতি বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্বশীলতার সাথে বিদেশি শিক্ষার্থী বাছাই বা ভর্তি করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগের লাইসেন্স বা অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।
হোম অফিস এবং মাইগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপের পক্ষ থেকে ৪ জুন এই নতুন নীতিমালার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়সমূহ
কঠোর নিয়মের প্রবর্তন: স্টুডেন্ট ভিসা স্পন্সর বা অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (বিশ্ববিদ্যালয়) জন্য বার্ষিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান মানদণ্ড বা পাস মার্ক বাড়ানো হয়েছে:
১. ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার: আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১০% ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ ছিল, তা কমিয়ে এখন ৫%-এর নিচে রাখতে হবে।
২. কোর্স এনরোলমেন্টের হার: ভিসা পাওয়ার পর ন্যূনতম ৯৫% শিক্ষার্থীকে কোর্সে যুক্ত হতে হবে (আগে এটি ছিল ৯০%)।
৩. কোর্স সম্পন্ন করার হার: ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯০% যেন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে তা নিশ্চিত করতে হবে (আগে এটি ছিল ৮৫%)।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারে, তবে তাদের ওপর ক্রমান্বয়ে জরিমানা আরোপ করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অধিকার হারাবে।
আশ্রয় প্রার্থনার প্রবণতা হ্রাস: সরকারের দাবি, কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিগত এক বছরে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার হার প্রায় ৩০% কমে এসেছে। এর আগে জালিয়াতি ও অনিয়ম বৃদ্ধির কারণে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার এবং সুদানের নাগরিকদের স্টুডেন্ট ভিসার ওপর জরুরি ‘ভিসা ব্রেক’ বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
সরকারের অবস্থান: মাইগ্রেশন মন্ত্রী মাইক ট্যাপ জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সব সময় প্রকৃত মেধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। তবে শিক্ষার্থীবৃত্তির এই সহজ পথটিকে কেউ যেন অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার ‘ব্যাকডোর’ বা পেছনের দরজা হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই এই কঠোর ব্যবস্থা।
বিষয়টি এমন যে, ৬ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বউদ্যোগে যে কড়াকড়ি শুরু করেছিল, ২০২৬ সালের জুনে এসে যুক্তরাজ্য সরকার আইন করে সেটি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।