
যুক্তরাজ্যের কর বিভাগ HMRC বিবাহিত দম্পতি ও সিভিল পার্টনারশিপে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ‘ম্যারেজ অ্যালাউন্স’ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য দম্পতিরা তাদের করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়ের সীমা কার্যত £১৩,৮৩০ পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা কয়েক বছর পেছনের তারিখ থেকেও দাবি করা সম্ভব।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বা পার্সোনাল অ্যালাউন্স £১২,৫৭০। ২০২১ সাল থেকে এই সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত একই থাকবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির কারণে আয় বাড়লেও করমুক্ত সীমা না বাড়ায় ক্রমেই বেশি মানুষ উচ্চ হারে করের আওতায় চলে আসছেন।
তবে ‘ম্যারেজ অ্যালাউন্স’ ব্যবস্থার আওতায় একজন স্বামী বা স্ত্রী তার অব্যবহৃত £১,২৬০ করমুক্ত আয়ের অংশ অন্য সঙ্গীর কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। এর ফলে যিনি কর পরিশোধ করেন, তার করের বিল বছরে £২৫২ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই সুবিধা বর্তমান কর বছরের পাশাপাশি আগের চারটি কর বছরের জন্যও দাবি করা যায়। ফলে যোগ্য দম্পতিরা সর্বোচ্চ £১,২৬০ পর্যন্ত কর ফেরত পেতে পারেন।
এই সুবিধা পেতে হলে একজন সঙ্গীর বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকতে হবে অথবা তিনি কোনো আয় না করলেও চলবে। অন্য সঙ্গীকে অবশ্যই বেসিক রেট করদাতা হতে হবে, অর্থাৎ তার করযোগ্য আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, চাকরি হারানো কেউ অথবা সন্তান লালন-পালনের কারণে কর্মজীবন থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিদের পরিবার এই সুবিধার আওতায় পড়তে পারে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, লাখো যোগ্য দম্পতি এখনও এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি। অথচ এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সরকারের অনুমোদিত একটি কর-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা। আবেদন অনুমোদিত হলে এইচএমআরসি কর কোড সমন্বয় করে অতিরিক্ত করমুক্ত সুবিধা প্রদান করে এবং পূর্ববর্তী বছরের পাওনা অর্থ ফেরত দেয়।
ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লরা সুটার বলেন, স্থির করসীমা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে আরও বেশি মানুষ উচ্চ হারে কর দিচ্ছেন। অথচ অনেক পরিবার এমন বৈধ কর সুবিধার সুযোগ সম্পর্কে অবগত নন। তার মতে, করব্যবস্থা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানও পরিবারগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাশ্রয় বয়ে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ম্যারেজ অ্যালাউন্স বিশেষ করে সেইসব দম্পতির জন্য উপকারী, যেখানে একজনের আয় কম বা নেই এবং অন্যজন বেসিক রেট করদাতা। আবেদনকারীরা অনলাইনে সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের সেবার নামে প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, করদাতারা চলতি কর বছরের পাশাপাশি ২০২১-২২ কর বছর পর্যন্ত ফিরে গিয়ে দাবি করতে পারবেন। এর আগের কর বছরের জন্য আর আবেদন করার সুযোগ নেই।