
সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে আরেকটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া ১৯ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা জেস টার্নবুল মারা গেছেন। বুধবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ক্র্যামলিংটনের এ১৮৯ স্পাইন রোডে একটি ল্যান্ড রোভার ফ্রিল্যান্ডার ও ফোর্ড এক্সপ্লোরারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল নবীন পুলিশ কর্মকর্তা জেস টার্নবুলকে।
তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই একটি কালো মার্সিডিজ গাড়ি একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন টার্নবুল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ ঘটানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ভ্যানেসা জার্ডিন জেস টার্নবুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কিছুই অপেক্ষা করছিল। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, যিনি সব সময় নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ কর্মকর্তারা জনগণকে সুরক্ষা দিতে ঝুঁকির মুখোমুখি হন। সৌভাগ্যবশত অধিকাংশই নিরাপদে বাড়ি ফেরেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে জেস আর ফিরতে পারেননি। তিনি সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন এবং তার এই ত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না।”
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক দুর্ঘটনায় ফোর্ড গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং ল্যান্ড রোভারের আরোহীরা পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় গুরুতর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মার্সিডিজ গাড়ির সঙ্গে পুলিশের চিহ্নিত গাড়ির সংঘর্ষে জেস টার্নবুল গুরুতর আহত হন। শুরুতে চালককে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে আটক করা হলেও কর্মকর্তার মৃত্যুর পর তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
ভ্যানেসা জার্ডিন বলেন, “এই মর্মান্তিক ক্ষতিতে আমরা শুধু একজন সহকর্মী বা বন্ধুকেই হারাইনি, আমাদের পরিবারের একজন সদস্যকেও হারিয়েছি। আমাদের চিন্তা ও সমবেদনা তার পরিবার, বন্ধু এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার সঙ্গে রয়েছে।”
নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশ সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলে ফুল বা শ্রদ্ধার্ঘ্য না রেখে ওয়ালসেন্ডে অবস্থিত বাহিনীর সদর দপ্তরে শ্রদ্ধা জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে।