
গতকাল ২১শে জুন রবিবার বার্মিংহামে একটি অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জন্য এয়ার কন্ডিশনার (এসি) স্থাপনের জন্য অনুদান বা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় পচিশটির মতো প্রতিশ্রতি পেয়েছেন।
একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও জনঅর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর উন্নয়ন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সেক্ষেত্রে হলে এসি স্থাপনের মতো অবকাঠামোগত কাজের জন্য প্রকাশ্যে ব্যক্তি বা প্রবাসীদের কাছে অর্থ চাওয়া কতটা যৌক্তিক এবং কতটা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
অবশ্যই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন স্বেচ্ছায় অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু সেই অনুদান কার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে, কোন হিসাবে জমা হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন আছে কি না, অর্থের ব্যবহার কীভাবে হবে এবং এর জবাবদিহিতা কার কাছে থাকবে—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
যদি সাদিক কায়েম একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সত্যিই শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই আবেদন করে থাকেন, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে - তিনি কি এর আগে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন?
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট হলে যদি এসি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা থেকে থাকে, তাহলে তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন, প্রস্তাব বা উন্নয়ন প্রকল্প জমা দিয়েছেন? তিনি কি প্রকাশ্যে এ দাবি উত্থাপন করেছেন বা প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছেন?
একই সঙ্গে এটাও জানা দরকার, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছিল কি না।
কারণ, কোনো বিষয়ে আপত্তি বা বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়টি আমরা এখনো জানি না।
ডাকসুর ভিপি শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও তিনি এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বা আর্থিক কর্তৃপক্ষ নন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বা কোনো হলের উন্নয়নের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ আহ্বান করা হলে তার প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।
মূল প্রশ্নটি এসি লাগানো উচিত কি উচিত নয়, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো- একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, অনুমোদিত এবং জবাবদিহিমূলক। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অ্যালামনাই ও সাধারণ জনগণের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সাহিদুর রহমান সুহেল
নির্বাহী সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব