
ব্রিটিশ রাজনীতিক ও রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ৫০ লাখ পাউন্ডের বিতর্কিত উপহার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ধনকুবের ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবর্নের দেওয়া অর্থ একটি “নিঃশর্ত উপহার” এবং তিনি চাইলে সেই অর্থ ফেরারি গাড়ি কিনতে বা ঘোড়দৌড়ে বাজি ধরতেও ব্যয় করতে পারেন।
মঙ্গলবার দুটি পৃথক রেডিও সাক্ষাৎকারে ফারাজ এ অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এলবিসি রেডিওকে তিনি বলেন, “সম্মান রেখেই বলছি, এতে আপনার কী আসে যায়? এটি একটি নিঃশর্ত উপহার। আমি চাইলে ফেরারি কিনতে পারি, সেটি সম্পূর্ণ আমার সিদ্ধান্ত। আমি চাইলে ঘোড়দৌড়েও সেই অর্থ ব্যয় করতে পারি।”
ফারাজের দাবি, অর্থটি মূলত তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ২৭ বছর ধরে ব্রেক্সিট আন্দোলনে যুক্ত থাকা, সিটি অব লন্ডনের উচ্চ আয়ের চাকরি ছেড়ে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের আক্রমণ ও সমালোচনা সহ্য করার জন্যই তিনি এ উপহার পেয়েছেন বলে মনে করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। কারণ, ২০২৪ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাস আগে এই অর্থ গ্রহণ করেছিলেন ফারাজ। ফলে এটি সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করা উচিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারাজ বলেন, উপহার গ্রহণের সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। সে কারণেই তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা কিয়ার স্টারমারের চশমা ও পোশাকের অনুদান গ্রহণের সমালোচনা করার সঙ্গে তার নিজের পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক নয়। ফারাজের ভাষ্য, “স্টারমার তখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, আর আমি ছিলাম জিবি নিউজের উপস্থাপক।”
ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের স্বার্থ রক্ষার বিনিময়ে অর্থ নিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নও নাকচ করে দেন তিনি। তার দাবি, তিনি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের ক্রিপ্টোবিষয়ক আইন পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন এবং অর্থ গ্রহণের সঙ্গে কোনো নীতিগত অবস্থানের সম্পর্ক নেই।
সাক্ষাৎকারে ফারাজ আরও বলেন, “আমি তখন রাজনীতিতে ছিলাম না। আমার বিশ্বাস, নিয়ম অনুযায়ী এটি ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতাও ছিল না। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এর বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।”
অন্যদিকে, ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকীতে ফারাজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তিনি মনে করেন, ব্রিটেন স্বাধীনভাবে নিজেদের আইন, অভিবাসননীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের সুযোগ পেয়েছে। তবে তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ব্রেক্সিটের ফলাফল মন থেকে মেনে নেয়নি এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করেনি।
তিনি বলেন, “আমি স্বাধীনতার জন্য অনুতপ্ত নই। আমি অনুতপ্ত নই যে আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছি। কিন্তু ব্রেক্সিটের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের বার্তা জনগণ দিয়েছিল, তা রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।”
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী নিক থমাস-সাইমন্ডস জানিয়েছেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের কারণে আগামী ২২ জুলাই নির্ধারিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলন পিছিয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
থমাস-সাইমন্ডস বলেন, “অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রশাসনিক দক্ষতা ও নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। তিনি রিফর্ম ইউকেকে মোকাবিলা করতেও সক্ষম হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”