যুক্তরাজ্য

BBC
২৩ জুন ২০২৬, ১৩:০৬
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ: ৩৯ ডিগ্রি ছুঁতে পারে তাপমাত্রা, আংশিক বন্ধ শতাধিক স্কুল

15845_123.jpg

যুক্তরাজ্যজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার গ্রেটার লন্ডনে তাপমাত্রা প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের বর্তমান সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বর্তমান জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডটি ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়েছিল। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা আরও বেড়ে ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদি তা ঘটে, তাহলে প্রায় পাঁচ দশক পুরোনো রেকর্ড ৩ ডিগ্রিরও বেশি ব্যবধানে ভেঙে যাবে, যা হবে এক অসাধারণ ঘটনা।

চলতি বছর যুক্তরাজ্যে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক উষ্ণতা ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটি ইতিহাসের উষ্ণতম মে মাসের দিনের সাক্ষী হয়েছে। এছাড়া ১৯১১ সালের পর এই প্রথম পরপর দুই মাসে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ওয়েলসেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙতে পারে। বর্তমানে দেশটির জুন মাসের রেকর্ড ৩৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলমান তাপপ্রবাহে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিছু আবহাওয়া মডেলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের কনিংসবিতে রেকর্ড হওয়া যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে দেশটি।

শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের উষ্ণতাও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আগামী কয়েক রাতে তাপমাত্রা ২২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নাও নামতে পারে, যা হলে জুন মাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৪৮টি স্কুল আগামী তিন দিনের মধ্যে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সোমারসেট, গ্লুচেস্টারশায়ার ও বাকিংহামশায়ারে। সোমারসেটে ৮৩টি, গ্লুচেস্টারশায়ারে ৫৪টি এবং বাকিংহামশায়ারে ৫১টি স্কুলে আংশিক বন্ধ বা সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক স্কুল মঙ্গলবারই নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করেছে।

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুধবার ও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, আবার কিছু স্কুল খোলা থাকলেও অভিভাবকদের ইচ্ছা হলে সন্তানদের আগেভাগে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক স্থানীয় কাউন্সিল আবহাওয়াজনিত কারণে স্কুল বন্ধের তালিকা প্রকাশ করে না এবং একাডেমি ট্রাস্টের অধীন বহু স্কুলও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া শারীরিক পরিশ্রম না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও