যুক্তরাজ্য

২৯ জুন ২০২৬, ১৪:০৬
আরও খবর

থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করে ক্যানসার নিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিলেন প্রিন্সেস কেট

15906_B7090A76-FD9A-4206-AC37-C3475B877EEC.jpeg

ব্রিটেনের প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটন ক্যানসারের বিরুদ্ধে নিজের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে আবারও সারা বিশ্বের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ন্যাশনাল থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি ক্যানসার নিয়ে একটি শক্তিশালী ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই কঠিন অভিযানে কেট যুক্তরাজ্যের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বত—বেন নেভিস, স্কাফেল পাইক এবং স্নোডন (ইর উইদভা)—মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরোহণ করেন। পুরো যাত্রায় তিনি প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন এবং ৩,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় ওঠেন। এই চ্যালেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্য রয়্যাল মার্সডেন ক্যানসার চ্যারিটি-এর জন্য তহবিল সংগ্রহ।

চ্যালেঞ্জ শেষ করে কেট বলেন, “এই অভিযান শুধু একটি শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছিল না। ক্যানসার নির্ণয়ের পর জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া এবং অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ ছিল এটি।” তিনি আরও বলেন, ক্যানসার শুধু শরীরকে নয়, মানুষের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা ও সার্বিক পরিচর্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন কেট মিডলটন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি শেষ করে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, তাঁর ক্যানসার বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করাকে তিনি সুস্থতার পথে নিজের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।

অভিযান শেষে কেটকে স্বাগত জানান তাঁর স্বামী প্রিন্স উইলিয়াম, তাঁদের তিন সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পুরো যাত্রায় নিরাপত্তার জন্য পর্বত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

ক্যানসার আক্রান্তদের উদ্দেশে কেট বলেন, “আপনারা কখনোই একা নন। সাহস মানে শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া নয়, কঠিন সময়েও নিজের ভেতরের শক্তিকে ধরে রাখা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ক্যানসার রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ও সার্বিক পরিচর্যার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

কেট মিডলটনের এই উদ্যোগ শুধু একটি দুঃসাহসিক অভিযান নয়; এটি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা লাখো মানুষের জন্য সাহস, আশা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাঁর এই বার্তা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য রোগী ও তাঁদের পরিবারের মনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে।


 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও