আইন- আদালত

জাসদ নেতা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

15912_IMG_6664.jpeg

জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডসহ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে।

প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। রায় ঘোষণা বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। গত ২২ জুন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী পার্টনার ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ ও ৪ আগস্ট তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। সেই সব কথাবার্তার মধ্য দিয়ে কারফিউ জারি এবং জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো—এসব বিষয় তার কথোপকথনের মধ্যে ছিল।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি এবং কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবেই এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি যে, জনাব ইনু সাহেব একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপরে নিপীড়ন চালানোর জন্য নানা কৌশল বা নানা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার ফলে বহু লোকের জীবনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

গত ২ এপ্রিল ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। টানা ৯ কার্য দিবস যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন তিনি। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন। গত ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও