যুক্তরাজ্য

১০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭
আরও খবর

লেবার নেতৃত্বে এগিয়ে বার্নহ্যাম, গাজা ইস্যুতে দলের অবস্থানের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন!

16002_IMG_6942.jpeg

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রয়োজনীয় মনোনয়নের চেয়ে অনেক বেশি সমর্থন পাওয়ায় তিনি কার্যত দলের নতুন নেতা হওয়ার পথে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী মাঠে না থাকায় তার নেতৃত্ব নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নেতৃত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার মধ্যেই গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক অবস্থানের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরুতে দল পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি এবং এতে অনেক মানুষ হতাশ হয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, “আমরা বিষয়টি ঠিকভাবে সামাল দিতে পারিনি এবং এজন্য আমি দুঃখিত।”

বার্নহ্যাম জানান, ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের প্রতি আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিকে ঘিরে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এবং এসব বসতি থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সংকটের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তবে তিনি হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলারও নিন্দা জানান এবং যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যুতে লেবারের আগের অবস্থানের কারণে মুসলিম ভোটার, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রগতিশীল সমর্থকদের একটি অংশ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বার্নহ্যামের এই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং নীতিগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার সেই হারানো সমর্থন পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে বার্নহ্যাম এখন দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে। তার নেতৃত্বে দল দেশীয় নীতির পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও