রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর, পররাষ্ট্র নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া: একটি ভূ-রাজনৈতিক পর্যালোচনা

16025_LB24 1600 x 2000px.jpeg

ব্যারিস্টার নাজির আহমদ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করে এসেছেন। এটা ছিল তাঁর সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর।  আর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেয়া ছিল নি:সন্দেহে তাঁর কুটনৈতিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন স্মার্ট মুভ। এর স্ট্র‍্যাটিজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। মালয়েশিয়া ও চীন প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে রিসিভ করেছে, সম্মান দেখিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রত‍্যয় ব‍্যক্ত করেছে এবং স্ব স্ব দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে তাঁর সফরের সংবাদ যেভাবে ফলাও করে এসেছে তাতে তাঁর এ সফর অত‍্যন্ত সফল ও ফলপ্রসু হয়েছে বলা যায়।

প্রত‍্যেক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি আছে, আছে তাদের বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে নির্দিষ্ট পলিসি। একটি দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও পলিসি ফরমোলেট করা হয় সে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংবিধান ও জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেরও পররাষ্ট্র নীতি ও পলিসি আছে। অন্য দেশ বা রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মূলনীতি হচ্ছে “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়”। পররাষ্ট্র নীতির ব্যাপারে বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে লিখা আছে “.…..অন্য রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব (national sovereignty), আভ্যন্তরীন বিষয়ে নাগ না গলানো (non-interference in internal affairs) ও সমতা (equality).......”।  

বিগত ৫৫ বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক অত্যন্ত চড়াই-উৎরাই ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অনেকটা ভারত নির্ভর ও সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ঘেষাঁ। ফলে তার সরকার পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে তৎকালীন অন‍্যতম বড় ও প্রভাবশালী পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়ে। বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারার ফলে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে পরাশক্তি কর্তৃক কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে সত্তর দশকের প্রথম ভাগে।

সত্তর দশকের শেষ ভাগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অনন্য ধারার পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের গোড়াপত্তন করেন। তিনি ভারতীয় আধিপত্যের বাইরে এসে দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে চমৎকার সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সাথে তাঁর এক গাঢ় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মধ‍্যপ্রাচ‍্যের দুটি বিবাদমান প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করার মতো অবস্থানে তিনি চলে গিয়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক এক হোঁচট খায়।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক নীতি হয়ে গিয়েছিল একেবারে ভারতমুখী ও ভারত নির্ভর। ভারত যা চাইতো তার চেয়ে বেশি বরং দেয়ার জন্য তার সরকার উদগ্রীব হয়ে থাকতো। কতটুকু নতজানু, পরনির্ভর ও একমুখি পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক ঐ সময় ছিল তা তখনকার সরকারের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের উক্তি থেকে বুঝা যায়। শেখ হাসিনা গর্বের সাথে বলেন “আমরা ভারতকে যা দিয়েছি সেটি তারা সারা জীবন মনে রাখবে”। অথচ বাংলাদেশ ভারত থেকে কি পেল তা নিয়ে যেন তার কোনো মাথাব্যথা নেই!  তার ১৫ বছরের শাসনকালে ভারতের সাথে পানি, নদী ও বর্ডারে হত্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।

তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরেক ধাপ এগিয়ে বলেন “ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর!” স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর হয় কেমনে? তিনি আরো বলেন “ভারতের উন্নয়ন মানে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন মানে ভারতের উন্নয়ন!” তাদের কথা শুনলে মনে হতো এ যেন তারা ক্ষমতায় বসেছেন ভারতকেই দেয়ার জন‍্য, ভারতকে তুষ্ট করার জন‍্য, ভারতের উন্নয়নের জন্য! আফসোস, এমন ব‍্যক্তিরাই দেশ পরিচালনার শীর্ষ স্থানে ছিলেন। ভারত তাদের দেশের স্বার্থে কোনো কিছু চাইতেই পারে। কিন্তু আপনি দেশ পরিচালনার ড্রাইভিং সীটে বসে আপনার দেশের কথা ভাববেন না, দেশের মানুষের স্বার্থের কথা ভাববেন না? দেড় যুগের শাসনকালে মনে হয়েছে তারা যেন বাংলাদেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় রাডারের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।  ফলে ঐ সময় বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তিও বাংলাদেশকে অনেকটা ভারতীয় লেন্সে দেখতো।

এতো গেল ভারতের ব‍্যাপারে তৎকালীন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের মনোভাবের কথা। ভারতেরও কি দায় কম? গোটা দক্ষিন এশিয়ায় খুব কমই ভারতের প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্র আছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে যদি তার সব প্রতিবেশীদের সাথে সুবিচার করতো, তাদেরকে সঠিক মর্যাদা দিতো এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার/ন্যায্য হিস্যা দিয়ে আসতো তাহলে ভারত বিশ্ব রাজনীতির পরিমন্ডলে অনন্য উচ্চতায় থাকতো। পাকিস্তান ভারতের চিরশত্রু (arch-rival )। একাধিকবার তাদের মধ‍্যে যুদ্ধ হয়েছে, যেকোন সময় ঠুনকো অজুহাতে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। নেপাল বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। ভূটানও মেরুদন্ড খাড়া করার আলামত দেখাচ্ছে। বাকী থাকলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিপুল অংশ বিভিন্ন কারণে ভারত বিরোধী। এই ভারত বিরোধী হওয়ার পিছনে ভারতের দ্বায় কম নয়। সাধারণভাবে দক্ষিন এশিয়া এবং বিশেষ করে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য ভারতের বিদেশ ও আধিপত্যবাদি নীতি বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সাথে তার আগ্রাসী সম্পর্ক ও আধিপত্যবাদি নীতি বহুলাংশে দায়ী। অঞ্চলিক পরাশক্তি হতে হলে মনকে বড় করতে হয়, হতে হয় উদার। নিজের জন্য যা ন্যায্যতা তা তারা চাইতে পারেন - তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু অন্যের ন্যায্যতা ও সমতা পাবার স্পৃহা এবং আকাঙ্খা বুঝতে হবে। এজন্যইতো আন্তর্জাতিক আইনে ও সম্পর্কে উদ্ভব ঘটেছে “ন্যায্যতা” ও “সমতা” ও “আনুপাতিক হারে পাপ্যতা” নামে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতি ও কনসেপ্ট।

পৃথিবীর প্রায় ৯০টি দেশ সফর করার সুযোগ হয়েছে। পৃথিবীতে অনেক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ আছে যাদের আয়তন বাংলাদেশের একেকটা জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়নের সমান। অনেক দেশগুলোর নিজস্ব বিমানবন্দর পর্যন্ত নেই। সে সব দেশগুলো অনেক কিছুতে তাদের প্রতিবেশী বড় দেশের উপর সম্পূর্ন নির্ভরশীল। পৃথিবীতে তিনটি দেশ আছে যার চতূর্দিক বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ দ্বারা বেষ্টিত। যেমন ভ্যাটিকান ও সান মেরিনো পুরোপুরি ইতালী দ্বারা বেষ্টিত এবং লেসোথো দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বারা বেষ্টিত। অথচ এদেশগুলো স্বাধীন ও সার্বভৌম। কই, তাদের মধ্যে বর্ডারে কোনো টেনশন বা উত্তেজনা দেখলাম না, হতাহত হওয়াতো কল্পনাতীত। অথচ বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারে অহরহ ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে। কোন নাগরিক যদি অবৈধভাবে বর্ডার ক্রস করে বা ফৌজদারি অপরাধও করে থাকে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়, তাকে ডিপোর্ট করা যায় কিন্তু কোনোভাবেই তার জীবন নেয়ার কোনো কোন এখতিয়ার কোন রাষ্ট্রের নেই। ভারতের সত্যিই তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক নিয়ে গভীর সোল-সার্চিং করা দরকার।

তবে হ্যাঁ, ভারত আমাদের নিকটতম  ও বড় প্রতিবেশী দেশ। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, মুক্তিযুদ্ধে তারা সরাসরি আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে। রাষ্ট্রের অনেক কিছু পরিবর্তন করা গেলেও প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না।  বিশ্ব রাজনীতিতে কোন রাষ্ট্রই স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নয়। দুই দুটি পারমানবিক বোমা নিক্ষেপকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের এখন বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও উন্নয়নের অংশীদার। সুতরাং, ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক থাকতে হবে, রাখতে হবে ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ।তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, ন‍্যায‍্যতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে। নিশ্চয়ই কোন নির্ভরতা, অধীনতা বা আধিপত্যবাদিতার ভিত্তিতে নয়।

অপরদিকে চীন আমাদের এক বড় উন্নয়ন পার্টনার ও আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনেকটা চাবিকাঠি। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে চীনের অর্থায়নে ও প্রত‍্যক্ষ‍ সহযোগিতায়। চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরাশক্তি। ভেটো দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিমান সদস্য। চীন অর্থনীতিতে বিশ্বে জায়েন্ট। অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে যেভাবে তারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে অনেক বিশ্লেষকদের মতে আগামী ৪০/৫০ বছর পর হয়তো তারা বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিকে টক্কর দিয়ে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে চীনের সাথে শুধু সম্পর্ক বজায় রেখে চললে হবে না, বরং চলমান সম্পর্ককে আরো মজবুত ও টেকসই করতে হবে।

রাশিয়ার সাথে এক সময় আমাদের সম্পর্ক ভাল ছিল এবং এখনও ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ আছে। আয়তনের দিকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র এবং এক সময়ের পরাশক্তি হলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর পৃথিবীতে তাদের সেই প্রভাব এখন আর তেমন নেই। অর্থনৈতিকভাবে এখন তারা অনেক দুর্বল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়াকে অনেকটা বেকায়দায় ফেলেছে। তবে স্বাধীন হওয়া পূরাতন সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর উপর রাশিয়ার প্রভাব এখনো বিদ্যমান আছে। ভাঙার পরও আয়তনে রাশিয়া এখনো পৃথিবীর বৃহত্তম রাষ্ট্র। ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী স্থায়ী সদস্য। সুতরাং রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের ওয়ার্কিং সম্পর্ক রাখতে হবে। তবে তা রাখতে হবে অত‍্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবেই বিচলিত (Upset) না করে।

অপরদিকে স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) পর এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর যুক্তরাষ্ট্র আবির্ভূত হয়েছে পৃথিবীর একক পরাশক্তি হিসেবে। বিশ্বে তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি অতুলনীয়। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন পার্টনার তারা। সবচেয়ে বেশী গার্মেন্টস রপ্তানী হয় যুক্তরাষ্ট্রে। যে সব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক রেওয়াজ, ভাষা ও সংস্কৃতিক ঐতিহ্য চীন বা রাশিয়ার সাথে তেমনটা যায় না, বরং তুলনামূলকভাবে বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু রক্ষাই নয় বরং আরো জোরালো ও সুদৃঢ় করতে হবে।

বাংলাদেশকে চলতে হবে অত‍্যন্ত সতর্কতার সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে, ভূ-রাজনীতির বাস্তবতাকে মাথায় রেখে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। ধীশক্তি ও প্রজ্ঞার পরিবর্তে আবেগতাড়িত হয়ে বা ক্ষুদ্র স্বার্থে কোন কিছু করলে বা কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তার চরম মূল্য দিতে হতে পারে। তারেক রহমানের পাঁচ মাসের সরকার পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতির মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে তুলেছেন। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিস্তা ও পদ্মা বাঁধের মহাপরিকল্পনার দ‍্যর্থহীন ঘোষণা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সুস্পষ্ট ঈঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি আধুনিকায়ন করতে হবে, প্রয়োজনে কিনতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি। চীনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও গভীর করতে হবে। একই সাথে ভারতের সাথে ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ বজায় রাখতে হবে, সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে রাশিয়ার সাথে। মোদ্দা কথা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুসৃত পররাষ্ট্র নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের পথ ধরে হাঁটলে পথ হারাবে না বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ। ঢুকতে হবে না কোন পরাশক্তির রাডারে। তবে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। সব কিছুর উপরে, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ডিজার্ভ করে “ন্যায্যতা” ও “সমতা” ও “আনুপাতিক হারে পাপ্যতা”র ভিত্তিতে পররাষ্ট্র নীতি ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক।

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।

ইমেইল: ahmedlaw2002@yahoo.co.uk

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও