যুক্তরাজ্য

Mirror
২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭
আরও খবর

ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইরানের, জবাবে কঠোর অবস্থানে ব্রিটেন!

16140_111.jpg

ইরানের সরাসরি হুমকির পর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দেশটি যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় সর্বক্ষণ প্রস্তুত। তবে একই সময়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী চার্লস উডবার্ন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক কম।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাজ্য ‘আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধে’ সহযোগিতা করছে। যদিও যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের ব্যবহৃত ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর তেহরান এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে যারা সহযোগিতা করবে, তাদের সিদ্ধান্তের পরিণতি ও দায়ভার বহন করতে হবে।

এর জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী দেশের মাটি কিংবা বিদেশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সর্বক্ষণ প্রস্তুত। তিনি জানান, রয়্যাল নেভি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সমন্বয়ে গড়ে তোলা বহুস্তরীয় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ন্যাটো মিত্রদের সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএই সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী চার্লস উডবার্ন বলেন, বর্তমানে বিশ্ব যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক সময়। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আধুনিক যুদ্ধের ধরন আমূল বদলে গেছে। বিশেষ করে ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আগ্রাসন প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিলেও উডবার্নের মতে, এই অর্থ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ব্যয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনটির হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। লন্ডনে চলতি বছরের অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা এবং গোল্ডার্স গ্রিনে সংঘটিত দ্বৈত ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নীতি বহাল রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

এর আগে আইআরজিসি ‘ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতি সতর্কবার্তা’ শিরোনামে এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ তোলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সমর্থন অব্যাহত থাকলে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সামরিক অভিযান নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করবে না। তবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও