
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সতর্ক করে বলেছেন, ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা (Social Care) ব্যবস্থায় দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার না আনলে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএস (NHS) ভবিষ্যতে ভেঙে পড়তে পারে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে অবহেলিত এই খাতের সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি সরাসরি এনএইচএসের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তি পর্যাপ্ত সামাজিক সেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অথচ তাদের অনেকেরই হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতো না যদি তারা বাড়িতে বা কমিউনিটিভিত্তিক সঠিক পরিচর্যা পেতেন। এর ফলে হাসপাতালের শয্যা দীর্ঘ সময় দখল হয়ে থাকে, জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বাড়ে এবং নতুন রোগীদের চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।
বার্নহ্যাম বলেন, “আমরা যদি সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কার না করি, তাহলে এনএইচএস শেষ পর্যন্ত এই চাপ সামলাতে পারবে না।” তিনি জানান, এই সমস্যার সমাধানে তিনি নিজের “রাজনৈতিক মূলধন” (political capital) ব্যবহার করতেও প্রস্তুত।
ইংল্যান্ডে এনএইচএসের চিকিৎসাসেবা সাধারণত বিনামূল্যে মিললেও সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে অনেক মানুষকে নিজ খরচে ব্যয় বহন করতে হয়। ফলে অনেক পরিবারকে সেবার খরচ মেটাতে সঞ্চয় শেষ করতে হয়, এমনকি বাড়ি বিক্রি করতেও বাধ্য হতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এত বড় সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে এটি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে বিরোধী দলগুলোও সামাজিক সেবা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। তবে এই সংস্কারের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।