
ইংল্যান্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে ১৪ বছর বয়স থেকেই প্রচলিত একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন এই শিক্ষা সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আরও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, দশম বর্ষ (Year 10) থেকে চালু হওয়া এই কোর্সগুলো স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকেই ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি তরুণ শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
ডার্বির একটি ট্রেন উৎপাদন কারখানায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হওয়ায় অনেক তরুণ নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করেছে। তিনি বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পথ নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষার্থীরা গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকভাবে পড়বে। পাশাপাশি তারা প্রযুক্তি ও কারিগরি বিষয় বেছে নিতে পারবে। এসব কোর্সের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও থাকবে।
সরকার আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের কিছু এলাকায় এই কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তরুণদের কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। স্কুল ও কলেজ নেতাদের সংগঠন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও অবকাঠামো না থাকলে অনেক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হবে। ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়নও সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ছাড়া এই উদ্যোগ সফল হবে না।
এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মুখপাত্র হেলেন হোয়েটলি বলেছেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে সবাই একমত হলেও সরকারের এই ঘোষণা নতুন বা যুগান্তকারী কিছু নয়। তার দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের নীতির কারণে তরুণদের চাকরির সুযোগ কমেছে এবং এই পরিকল্পনা সেই সমস্যার সমাধান করবে না।
সরকার জানিয়েছে, এই পরিবর্তন আপাতত শুধু ইংল্যান্ডে কার্যকর হবে। তবে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।