যুক্তরাজ্য

Mirror
২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮
আরও খবর

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, তবুও তাপমাত্রা থাকবে ৩০ ডিগ্রির বেশি

16251_dreamstime_l_103213756.jpg

দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পর আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর মেট অফিস। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে দেশের ওপর নিম্নচাপের প্রভাব বিস্তার শুরু হতে পারে, যার ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রঝড়ও হতে পারে।

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে চারটি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। জুলাই মাসজুড়ে অস্বাভাবিক গরম, খুব কম বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগস্টের শুরুতে কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, এতে পুরো দেশের খরা পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক উন্নতি হবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

মেট অফিসের প্রধান পূর্বাভাসবিদ ক্রিস বালমার বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আসবে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আবারও উষ্ণ আবহাওয়া ফিরে এলেও, এবার সেই উষ্ণতার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও থাকবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ খুবই সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কিছু অংশসহ উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগস্টের শুরুতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অনেক এলাকায় আবারও গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ফিরে আসতে পারে। কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের কয়েকটি এলাকায় পুরো জুলাই মাসে ১ মিলিমিটারেরও কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল এবং পুরো ওয়েলসকে খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের থেমস ভ্যালি, ইস্ট অ্যাংলিয়া, হ্যাম্পশায়ার ও আইল অব ওয়াইট, ডেভন ও কর্নওয়াল, হার্টফোর্ডশায়ার, সমগ্র লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এবং ওয়েসেক্স অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ফলে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যে এটি তৃতীয় বড় খরা হিসেবে রেকর্ড হলো। এর আগে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও দেশটি একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল।

এদিকে পরিবেশ সংস্থার (এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি) পানি বিষয়ক পরিচালক এবং ন্যাশনাল ড্রাউট গ্রুপের চেয়ার হেলেন ওয়েকহ্যাম সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মানুষ যে হারে পানি ব্যবহার করছে, প্রকৃতি সেই হারে পানির উৎস পুনরায় পূরণ করতে পারছে না। তাঁর মতে, টানা দ্বিতীয় বছরের গ্রীষ্মকালীন খরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও দেশের অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও