যুক্তরাজ্য

Guardian
২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৮
আরও খবর

'ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল' - হাজারো ইইউ নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!

16253_study-in-london-1068x641.jpeg

প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাসধারী কিছু ইইউ নাগরিককে ‘ভুল করে’ বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের। এতে চাকরি, বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন অনেকেই।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিককে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বসবাসের অধিকার ‘ভুলবশত’ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়ে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে হোম অফিস। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য-ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি (Withdrawal Agreement) লঙ্ঘনের আশঙ্কা এবং হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হোম অফিস ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস (Pre-Settled Status) প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই অনুমোদন করা হয়েছিল। ফলে এখন তাদের স্থায়ী সেটেলড স্ট্যাটাস (Settled Status) পাওয়ার আবেদনও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এমনই একজন গ্যাব্রিয়েলা, যিনি পর্তুগিজ নাগরিকত্বের অধিকারী এবং যুক্তরাজ্যের এনএইচএসে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি পিএইচডি গবেষণাও করছেন। তিনি জানান, হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গ্যাব্রিয়েলার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু তার অভিবাসন অবস্থাকেই নয়, চাকরি, বাসা ভাড়া, ব্যাংকিং সেবা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বৈধভাবে থাকার অধিকার হারালে চাকরি হারানোর পাশাপাশি বাসা ভাড়া নেওয়া কিংবা ব্যাংক হিসাব পরিচালনাতেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ব্রেক্সিটের আগে পাঁচ বছরের কম সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ১৩ লাখ ইইউ নাগরিককে ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের আওতায় প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তাদের অনেকেই সেটেলড স্ট্যাটাসে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান। তবে এখন হোম অফিস বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে—যেমন শিশু, ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-বহির্ভূত পরিবারের সদস্য এবং ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের—তাদের কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করছে।

গ্যাব্রিয়েলার ক্ষেত্রে হোম অফিস দাবি করেছে, আবেদন করার সময় তিনি নিজেকে ‘প্রাসঙ্গিক ইইএ নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। তাই তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস ‘ভুলবশত’ অনুমোদিত হয়েছিল।

তবে গ্যাব্রিয়েলা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তার বাবা পর্তুগিজ হওয়ায় জন্মসূত্রেই তিনি ইইউ নাগরিক এবং আবেদন করার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি।

অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন the3million জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন ডজনখানেক ঘটনার তথ্য রয়েছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, একই ধরনের চিঠি ভবিষ্যতে আরও বহু মানুষ পেতে পারেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জনকে এ ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, বহু মানুষ হোম অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর বিশ্বাস রেখে বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে জীবন গড়ে তুলেছেন। তাদের সন্তানরা এখানকার স্কুলে পড়ছে, অনেকেই স্থায়ী চাকরিতে আছেন। এখন পাঁচ বছর পর এসে যদি বলা হয়, তাদের স্ট্যাটাস শুরু থেকেই ভুল ছিল, তাহলে তা অত্যন্ত অন্যায্য এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও উদ্বেগজনক।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং অথরিটি (IMA) জানিয়েছে, হোম অফিসের এই নীতি চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, তারা ব্যক্তিগত মামলার বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে যাদের স্ট্যাটাস ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা চাইলে অন্য অভিবাসন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কেউ যদি মনে করেন তার প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস সঠিকভাবেই দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তিনি নতুন আবেদন ও আইনি আপিল করার সুযোগও পাবেন।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও