
দীর্ঘস্থায়ী খরা ও অস্বাভাবিক গরমের কারণে যুক্তরাজ্যে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কৃষক নেতারা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং পানির তীব্র সংকটের কারণে গম, বার্লি, আলু, সবজি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের (NFU) সভাপতি টম ব্র্যাডশ জানান, চলমান খরা অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ দিকে সুপারমার্কেটগুলোতে কিছু খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, কৃষকরা পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমে গম ও বার্লির ফলন গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ফসল কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে সবজি ও ফলের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে পানির ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কমে গেছে নদী ও জলাধারের পানির স্তর। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে, যা কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য অতিরিক্ত হুমকি তৈরি করছে।
কৃষক সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, কৃষিজমিতে পানি সংরক্ষণের জন্য নতুন জলাধার নির্মাণ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি শিগগিরই পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।