
আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের চিন্তা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাংলাদেশি টাকায় এই অঙ্ক প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ফি আরোপ করা হতে পারে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) সুবিধার ওপর। এই সুবিধার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষে ১ থেকে ৩ বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পারেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ওপিটির মাধ্যমে কাজ করেছেন।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধস নামবে। একই সঙ্গে দেশটির কর্মসংস্থান খাতেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মেধাবী শিক্ষার্থী আকর্ষণে বড় বাধা
বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ওপিটি কেবল সাধারণ কোনো সুবিধা নয়। মূলত এই সুবিধার কারণে তারা কানাডা, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার বদলে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন।
পড়াশোনার পেছনে পরিবারগুলোর বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। পড়ালেখা শেষে কাজের সুযোগ পেলে তারা এই খরচ কিছুটা হলেও তুলে আনার আশা করেন। আমেরিকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা ও থাকার খরচ বছরে ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার গুনতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বর্তমানে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করছে। তবে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় নাকি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এই টাকা দেবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ডিএইচএস জানিয়েছে, চূড়ান্ত ঘোষণার আগে একে আইন বলা যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন শঙ্কা
এমনিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে চরম সংকটে আছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, বাড়তি নজরদারি ও নীতিগত অনিশ্চয়তা এর মূল কারণ। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমেরিকা পিছিয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বহু বিশ্ববিদ্যালয়।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিকে থাকার পেছনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় অবদান থাকে। তারা পুরো টিউশন ফি পরিশোধ করে অর্থনীতিতে বড় যোগান দেন। এ ছাড়া দেশের শিক্ষার্থী ঘাটতি পূরণেও তারা ভূমিকা রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষে কাজ করা ব্যয়বহুল হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ খুঁজবেন। ইতিমধ্যে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ইংরেজিতে পড়ার সুযোগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগও সহজ করেছে তারা।
সংকটে পড়বে প্রযুক্তি খাত
এই সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধাক্কা খাবে আমেরিকার প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা দক্ষ কর্মী পাওয়ার জন্য আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরই নির্ভর করে। ওপিটির মাধ্যমে প্রথমে সাময়িক কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তাদের এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।
পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ওপর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তা আদালতে আটকে যায়। ওপিটির ওপর নতুন ফি চালু হলে সেই একই উদ্দেশ্য পূরণ হবে বলে মনে করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নিয়োগকর্তাদের মতে, কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রকৌশল খাতে কাজের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের বিকল্প নেই।
চলতি শরৎকালে ওপিটি নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। চলতি মাসের শুরুতে প্রশাসন জানিয়েছে, ওপিটিতে অংশ নিতে এখন নতুন করে ভিসা বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। আগের মতো সয়ংক্রিয়ভাবে থাকার সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে বিশ্ববাজারে শিক্ষার্থী হারানোর আতঙ্কে ভুগছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।