
ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের ফ্রান্স বা বেলজিয়ামে ফেরত পাঠাতে রয়্যাল নেভি ব্যবহারের প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনার মুখে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ
যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ আবারও অভিবাসন ইস্যুতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের রয়্যাল নেভির সহায়তায় ফ্রান্স বা বেলজিয়ামে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ নামে এই প্রস্তাব প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহল, সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে ফারাজ তার বহুল বিতর্কিত ‘ব্রেকিং পয়েন্ট’ পোস্টারের নতুন সংস্করণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের আগে প্রকাশিত মূল পোস্টারটি সে সময় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল এবং তৎকালীন চ্যান্সেলর জর্জ ওসবোর্ন এটিকে নাৎসি প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। নতুন পোস্টার প্রকাশের পরও অনেক ব্যবহারকারী এটিকে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।
ফারাজের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রয়্যাল নেভি ইংলিশ চ্যানেলে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের আটক করে ফ্রান্স অথবা বেলজিয়ামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
সাবেক রয়্যাল নেভি কমান্ডার টম শার্প বিবিসিকে বলেন, বর্তমানে রয়্যাল নেভির কাছে এমন অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জাহাজ নেই। তার মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চ্যানেলে সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধজাহাজের মূল সক্ষমতা অন্য ধরনের নিরাপত্তা অভিযানের জন্য, তাই অভিবাসী ঠেকাতে সেগুলো ব্যবহার করা সামরিক সম্পদের অযৌক্তিক ব্যবহার হবে।
তিনি আরও সতর্ক করেন, ফ্রান্স অভিবাসীদের রয়্যাল নেভির মাধ্যমে নিজেদের উপকূলে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি নাও দিতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষের জীবন রক্ষা করাই জাহাজগুলোর প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে রিফর্ম ইউকের ডেপুটি নেতা রিচার্ড টাইসের বিরুদ্ধে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে ঘোষণা না করার অভিযোগে পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত শুরু করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর লেবার পার্টি অভিযোগ করেছে, রিফর্ম ইউকের নেতারা মনে করেন তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও বলেছে, ভোটাররা রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করেন, নতুন কোনো বিতর্ক নয়।
অন্যদিকে, ফারাজের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যতই বাড়ছে, ততই সামনে আসছে বাস্তবায়নের নানা আইনি, কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এমন পরিকল্পনা কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।