
কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের শেষ দিনে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বজ্রঝড়, মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের মতে, দীর্ঘ সময়ের অস্বাভাবিক গরমের পর বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা তাপ ও আর্দ্রতার প্রভাবে হঠাৎ করেই প্রবল বজ্রঝড় সৃষ্টি হতে পারে, যা স্বল্প সময়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটাতে সক্ষম।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে নিম্নাঞ্চল দ্রুত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের তীব্র গরমের কারণে মাটির উপরের স্তর অত্যন্ত শুকিয়ে গেছে। ফলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির পানি সহজে মাটিতে শোষিত না হয়ে দ্রুত সড়ক, বসতি ও নিম্নাঞ্চলে জমে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এছাড়া বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছ উপড়ে পড়া এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময় প্লাবিত সড়ক পার না হওয়া, স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কবার্তা অনুসরণ করা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নদী ও খালের আশপাশে বসবাসকারীদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছায়। দীর্ঘস্থায়ী গরমের কারণে খরা, দাবানল এবং পানির সংকট দেখা দেয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বজ্রঝড় তাপপ্রবাহের অবসান ঘটিয়ে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, একই সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের ঝুঁকি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।