
নিউকির ফিস্ট্রাল বিচে মাছ ধরার সময় সমুদ্রে ভেসে যান ৩২ বছর বয়সী মেয়ে, তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন ৬৬ বছরের বাবা; দুজনেরই মৃত্যু। তদন্তে উঠে এলো হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত।
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের জনপ্রিয় সার্ফিং সৈকত ফিস্ট্রাল বিচে (Fistral Beach) মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তার মেয়েরও। কর্নওয়াল করোনার আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে উঠে এসেছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত।
মৃতরা হলেন দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের ডনকাস্টারের বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী জন পিটার কলিন্স এবং তার ৩২ বছর বয়সী মেয়ে সামান্থা অ্যাডেল কলিন্স। গত ২৬ জুলাই নিউকির ফিস্ট্রাল বিচে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আদালতে সহকারী করোনার এমা হিলসন জানান, পরিবারটি ছুটি কাটাতে নিউকিতে গিয়েছিল। ঘটনার সময় বাবা ও মেয়ে সৈকতের পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে মাছ ধরছিলেন। একপর্যায়ে সামান্থা হঠাৎ সমুদ্রের স্রোতে ভেসে যান। তাকে উদ্ধার করতে কোনো দ্বিধা না করে পানিতে ঝাঁপ দেন তার বাবা জন পিটার কলিন্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেননি। প্রবল স্রোতে দুজনই তলিয়ে যান।
পরবর্তীতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাদের দুজনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতে আরও জানানো হয়, জন পিটার কলিন্সের স্ত্রী এবং সামান্থার মা অ্যাডেল কলিন্স মরদেহ দুটি শনাক্ত করেন। গত ২৯ জুলাই রয়্যাল কর্নওয়াল হাসপাতালের ট্রেলিসকে পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বাবা ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া (ড্রাউনিং) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহকারী করোনার বলেন, ঘটনাটির পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ বিবেচনায় এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (Unnatural Death) হতে পারে বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ যৌথ তদন্ত (ইনকোয়েস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৯ জুলাই ২০২৭ এই শুনানির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুনানিতে আরও জানানো হয়, জন পিটার কলিন্স ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তার মেয়ে সামান্থা অবিবাহিত ছিলেন।
এর আগে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ জানিয়েছিল, ২৬ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে ফিস্ট্রাল বিচ থেকে জরুরি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বাবা ও মেয়ের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সামান্থার সঙ্গে একটি কমলা বা পিচ রঙের কাঁধে ঝোলানো হ্যান্ডব্যাগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাগটিতে তার পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ও মূল্যবান কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ যদি বর্ণনার সঙ্গে মিল থাকা ব্যাগটি খুঁজে পান, তাহলে সেটি নিউকি পুলিশ স্টেশনে জমা দিতে অথবা ৫০২৬০১৯৭২০৯ নম্বরের ঘটনার রেফারেন্স উল্লেখ করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়েকে বাঁচাতে বাবার শেষ মুহূর্তের আত্মত্যাগ অনেকের হৃদয় স্পর্শ করেছে।