
যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেসন আর্ডে চৌর্যবৃত্তি সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর গবেষণা, একাডেমিক যোগ্যতা এবং অতীতের বিভিন্ন দাবি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
জেসন আর্ডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ব্যক্তিগত জীবনে অটিজম, ডিসলেক্সিয়া এবং শৈশবে ভাষা শেখার জটিলতা কাটিয়ে তাঁর একাডেমিক সাফল্যের গল্প আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি তাঁর ২০১৫ সালের পিএইচডি গবেষণাপত্রে অন্য গবেষকের লেখা যথাযথ সূত্র উল্লেখ ছাড়া ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা কিছু একাডেমিক পদ, ফেলোশিপ, দাতব্য কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত অর্জনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কলেজ পৃথক তদন্ত শুরু করে।
পদত্যাগের ঘোষণায় জেসন আর্ডে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র জনসমালোচনা, সংবাদমাধ্যমের চাপ এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর পদত্যাগ কোনোভাবেই অভিযোগ স্বীকার করার সমান নয়। তিনি ইচ্ছাকৃত একাডেমিক জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কিছু ভুল থাকলেও সেগুলোকে প্রতারণা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী চলবে এবং সব পক্ষের প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করবে না।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একাডেমিক সততা, গবেষণার মৌলিকত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।