
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটির ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিহত হন। গুরুতর আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহত ১৩ জনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
তিনি বলেন, ধাক্কার ইউনিক পরিবহনের বাসটির ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। বাসটির ডান পাশের আসনে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ইউনিক পরিবহনের বাসটি শুক্রবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। অন্যদিকে বেঙ্গল পরিবহনের নাইট কোচটি ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে আসছিল।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং হতাহতদের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।