
ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার ইভান টনির বিরুদ্ধে লন্ডনের সোहो এলাকার একটি নাইটক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ‘অ্যাসল্ট কজিং অ্যাকচুয়াল বডিলি হার্ম’ (Actual Bodily Harm—ABH)-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের ৬ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে টনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ৩১ জুলাই চার্জ করা হয়।
৩০ বছর বয়সী টনি বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-আহলির হয়ে খেলেন। তিনি সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও ছিলেন। অভিযোগের ঘটনায় তাকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হতে হবে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
মেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোররাতে সোহার ওয়ার্ডোর স্ট্রিটে একটি নাইটক্লাবে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি ছিল টনিকে ঘিরে একটি সংঘর্ষের। সে সময় টনিকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রথমদিকে তার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ এবং ‘affray’ বা জনসমক্ষে সহিংস সংঘর্ষের সন্দেহে তদন্ত করা হয়। পরে তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে ABH-এর অভিযোগ আনা হয়।
তৎকালীন প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি টনির সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করার সময় তাকে ধরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি টনির গলায় হাত দেওয়ার পর টনি তাকে সরে যেতে বলেছিলেন এবং এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্য আদালতের প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার হবে।
ঘটনার পর আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেট পুলিশ জানিয়েছিল, তার আঘাত জীবন-সংশয়ী বা জীবন পরিবর্তনকারী পর্যায়ের ছিল না। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও জানিয়েছিল, ঘটনাস্থলে তিনজনকে মূল্যায়ন করা হয় এবং একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
টনির পক্ষের বক্তব্য কী?
টনির প্রতিনিধির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগে তিনি ‘শকড’ বা বিস্মিত হয়েছেন এবং আদালতে নিজের নাম পরিষ্কার করার অপেক্ষায় আছেন। অর্থাৎ, অভিযোগটি নিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাউকে চার্জ করা মানেই আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইংল্যান্ড ও আল-আহলির হয়ে টনির সাম্প্রতিক সাফল্য
নাইটক্লাবের এই আইনি ঘটনায় টনির ফুটবল ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক সাফল্যও আলোচনায় এসেছে। সৌদি ক্লাব আল-আহলির হয়ে গত মৌসুমে তিনি দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এবং ৪৯ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দলটি টনির অবদানে টানা দ্বিতীয়বার AFC Champions League Elite শিরোপাও জিতেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের দলে ছিলেন টনি। বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকে খেলেন। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড ৬-৪ গোলে জয় পায়।
সামনে কী?
এখন টনির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইনি প্রক্রিয়া। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তার হাজিরার পর মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগোবে।
ঘটনাটি টনির ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার পরবর্তী শুনানিতে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং টনির আইনি অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।