যুক্তরাজ্য

৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে আসছে পঞ্চম হিটওয়েভ, আগামী সপ্তাহে উঠতে পারে ৩৬°C

16322_732894.jpeg

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে বছরের পঞ্চম হিটওয়েভ এর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়ছে তাপমাত্রা। আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তীব্র গরম পড়ার পূর্বাভাসের মধ্যে দেশটি সম্ভাব্য পঞ্চম তাপপ্রবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে হলুদ তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ)।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে জারি হওয়া এই সতর্কতা মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অতিরিক্ত গরম জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে ৩৬ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্ত থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। রোববার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বা তার কিছু বেশি হতে পারে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর বুধবার তা বেড়ে ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে।

তবে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ার আশঙ্কা বৃহস্পতিবার। পূর্ব অ্যাংলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

কোন কোন এলাকায় তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা

ইউকেএইচএসএ ইংল্যান্ডের ইস্ট মিডল্যান্ডস, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম, ইস্ট অব ইংল্যান্ড, ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বার এবং লন্ডনে হলুদ তাপ-স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে।

সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ায় উত্তর-দক্ষিণে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে। স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বেশিরভাগ এলাকায় আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল, কোথাও কোথাও থাকবে আরও উষ্ণ পরিবেশ।

২০২৬ সালে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ডের আশঙ্কা

চলতি বছর ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার ৩৩টি দিন রেকর্ড হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ৩৪ দিনের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ২০২৬।

আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য তাপপ্রবাহের কারণে এ বছর ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে নরফোকের লিংউডে। গত ২৮ জুন সেখানে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকি

তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সাফোকের ডানউইচ হিথ, আইল অব ওয়াইটের হেডন ওয়ারেন, দক্ষিণ ওয়েলসের রন্ডা ভ্যালিস এবং স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কে বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সিভিয়ারিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, রোববার ইংল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় পুরো এলাকায় আগুনের তীব্রতা ‘অসাধারণভাবে বেশি’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এটি সূচকটির সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর।

তবে এই সূচক কোনো এলাকায় দাবানল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মতো আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহার করে আগুন লাগলে তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ধারণা দেওয়া হয়।

কমছে ইংল্যান্ডের জলাধারের পানির মজুত

দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে ইংল্যান্ডের জলাধারগুলোর পানির মজুতেও। পরিবেশ সংস্থার সর্বশেষ হিসাবে, শুক্রবার ইংল্যান্ডের জলাধারগুলোর গড় মজুত নেমে এসেছে ৬৯ শতাংশে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৭২ শতাংশ। এই হার বছরের এই সময়ের দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

জুনের শেষ দিকে জলাধারগুলোর পানির মজুত ছিল ৮৫ শতাংশ, যা ওই সময়ের স্বাভাবিক গড়ের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

ইংল্যান্ডের অন্তত পাঁচটি জলাধারকে বর্তমানে ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’ পানির স্তরের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সোমারসেটের ব্ল্যাগডনে পানির মজুত ৫৪ শতাংশ, পাওয়িসের ক্লিউডগে ৬২ শতাংশ, ডার্বিশায়ারের ডাভ গ্রুপে ৭৪ শতাংশ, এসেক্সের হ্যানিংফিল্ডে ৬০ শতাংশ এবং সোমারসেটের উইম্বলবলে ৫০ শতাংশ রয়েছে।

রেকর্ড শুষ্ক জুলাই

তাপপ্রবাহ ও খরার পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে সাম্প্রতিক শুষ্ক আবহাওয়া। আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই ছিল ১৮৩৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই।

ইংল্যান্ডের ১৯টি কাউন্টিতে পুরো জুলাই মাসে কার্যত কোনো বৃষ্টিই হয়নি। এসব এলাকায় মাসজুড়ে মোট বৃষ্টিপাত ছিল মাত্র ১ মিলিমিটার বা তারও কম।

এদিকে ন্যাশনাল ট্রাস্ট সাম্প্রতিক দাবানল ও চরম আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছে।

তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত, জলাধারে পানির মজুত কমে যাওয়া এবং দাবানলের বাড়তি ঝুঁকির মধ্যে আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও