যুক্তরাজ্য

৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে ফের শুরু হিটওয়েভ, রোববার ৩৩°সে. থেকে বৃহস্পতিবার ৩৬°সে.

16326_kharagpur-sadar-93.jpeg

যুক্তরাজ্যে আবারও তীব্র গরমের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। রোববার দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার ইস্ট অ্যাংলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে হলুদ তাপস্বাস্থ্য সতর্কতা কার্যকর হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মধ্য ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার স্কটল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে আবহাওয়া বেশিরভাগ সময় শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে এবং অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ২০-এর ঘরের শেষভাগে থাকবে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে ফের তীব্র গরমের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল।

রোববার দাবানলের ঝুঁকি ‘অসাধারণ’ মাত্রায়

তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের প্রায় পুরো এলাকায় রোববার কোনো দাবানল শুরু হলে তা অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা সূচকে ‘অসাধারণ’ মাত্রা সর্বোচ্চ সতর্কতা নির্দেশ করে।

এই সূচক তৈরিতে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। কোনো এলাকায় আগুন লাগলে সেটি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই তথ্য ব্যবহার করে। তবে এই সূচক নিজে থেকে কোথাও দাবানল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে না।

তাপপ্রবাহে ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা

তীব্র গরমের মধ্যে কিছু ওষুধ শরীরের পানিশূন্যতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সূর্যের তাপ মোকাবিলার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডা. অ্যালিসন কেভ জানিয়েছেন, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ সূর্যের আলোতে ত্বকে বিশেষ ধরনের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশকও সূর্যের প্রতি ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

মঙ্গলবার পর্যন্ত জারি থাকবে হলুদ সতর্কতা

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইংল্যান্ডের ইস্ট মিডল্যান্ডস, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম, ইস্ট অব ইংল্যান্ড, ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বার এবং লন্ডনে হলুদ তাপস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। এই সতর্কতা মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র গরম সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

এরই মধ্যে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে আবারও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বৃহস্পতিবার ইস্ট অ্যাংলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যু ও দাবানলের আশঙ্কা

চলতি বছরের মে ও জুনে দুটি রেকর্ড তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ২ হাজার ৮০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ের আরও দুটি তাপপ্রবাহ দেশজুড়ে খরা পরিস্থিতি ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বড় দাবানল দেখা গেছে। এর মধ্যে সাফোকের ডানউইচ হিথ, আইল অব ওয়াইটের হেডন ওয়ারেন, দক্ষিণ ওয়েলসের রনডা ভ্যালিসের লানওনো এবং স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কে বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে ইংল্যান্ডের জলাধারগুলোর ওপরও। পরিবেশ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের জলাধারগুলোর গড় পানি ধারণক্ষমতা কমে ৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ৭২ শতাংশের তুলনায় কম এবং বছরের এই সময়ের দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কম।

জুনের শেষদিকে জলাধারগুলোর পানি ৮৫ শতাংশে ছিল, যা ওই সময়ের স্বাভাবিক গড়ের কাছাকাছি। কিন্তু এরপর থেকে টানা কয়েক সপ্তাহে পানির স্তর দ্রুত কমেছে।

দেশটির পাঁচটি জলাধারকে বর্তমানে ‘অসাধারণভাবে কম’ পানির স্তরের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সমারসেটের ব্ল্যাগডন জলাধার ৫৪ শতাংশ, পাওয়িসের ক্লুইডগ ৬২ শতাংশ, ডার্বিশায়ারের ডাভ জলাধারসমূহ ৭৪ শতাংশ, এসেক্সের হ্যানিংফিল্ড ৬০ শতাংশ এবং সমারসেটের উইম্বলবল ৫০ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে।

রেকর্ড শুষ্ক জুলাই

শুষ্ক আবহাওয়ার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে জুলাইয়ের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানেও। আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৩৬ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর গত জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ১৯টি কাউন্টিতে পুরো জুলাই মাসে মাত্র ১ মিলিমিটার বা তারও কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছে ন্যাশনাল ট্রাস্ট।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও