
হ্যাম্পশায়ারের নিউ ফরেস্টে ভয়াবহ আগুনে বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত হিথল্যান্ড পুড়ে যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে এ৩১ সড়কে একটি লরিতে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের শুকনো হিথল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। শুষ্ক পরিস্থিতির কারণে আগুন দ্রুত বিস্তৃত হয়ে এখন প্রায় ২৪৭ একর বা ১০০ হেক্টরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই এলাকা প্রায় ১৪০টি ফুটবল মাঠের সমান।
আগুনের শিখা দ্রুত এ৩১ সড়কের দিকে এগিয়ে আসায় সেখানে থাকা চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। পুলিশ কয়েকজন চালককে গাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী রবার্ট গ্রিন জানান, আগুন তাদের অবস্থান থেকে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ গজ দূরে ছিল। তিনি বলেন, অনেকে গাড়ি ছেড়ে বিপরীত দিকের সড়ক দিয়ে সন্তানদের কোলে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন। অন্যদিকে তাদের দিকের চালকেরা গাড়ি ঘুরিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।
রবার্ট গ্রিন জানান, এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন। তিনি গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে কিছুটা দূরে আরেক পুলিশ সদস্যকে কয়েকজন মানুষকে বের করে আনতে দেখা যায় এবং তাদের একটি বনপথ দিয়ে নিরাপদে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি তার কাছে অত্যন্ত ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগুনের কারণে এ৩১ সড়কের প্রায় ১২ মাইল অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ম২৭-এর জংশন ২, ওয়ার থেকে রিংউডের এ৩৮ সংযোগস্থল পর্যন্ত সড়কটি দুই দিকেই বন্ধ রয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া লরি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সড়কের পৃষ্ঠ ও নিরাপত্তা ব্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
নিউ ফরেস্টের এই আগুন শুধু সড়ক যোগাযোগেই সমস্যা তৈরি করেনি, বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যে এলাকায় আগুন ছড়িয়েছে সেখানে রয়েছে বিরল হিথল্যান্ড, যা নিউ ফরেস্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আবাসস্থল। নিউ ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের হিথল্যান্ড বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বিরল এবং অনেক ক্ষেত্রে রেইনফরেস্টের চেয়েও দুর্লভ।
এই এলাকায় বন্য পোনি, হরিণ, বিরল পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়ের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ছয়টি স্থানীয় সরীসৃপ প্রজাতির আবাস রয়েছে। ভয়াবহ আগুনে এই সংরক্ষিত প্রাকৃতিক পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ১০টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং ১০টি অফ-রোড ফায়ারফাইটিং যান কাজ করছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দমকলকর্মীরা আগুনের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রিংউড শহরের ওপর দিয়ে একটি উচ্চক্ষমতার পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ এখনও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যে চলছে এবং দমকলকর্মীদের আরও কিছু সময় ঘটনাস্থলে থাকতে হতে পারে। তবে আগুন থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আশপাশের এলাকা থেকে এখনও ধোঁয়া দেখা গেলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, শিশু ও নবজাতকদের ধোঁয়ার কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সম্ভব হলে এ৩১-এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আগুনের কারণে নিউ ফরেস্টের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সড়কটি স্বাভাবিকভাবে খুলতে মেরামতের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
চাইলে আমি এটিকে **আরও সংবাদপত্রের মতো শক্তিশালী লিড ও বেশি আকর্ষণীয় SEO শিরোনাম** দিয়ে আরও ঝরঝরে করে দিতে পারি।