যুক্তরাজ্য

১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮
আরও খবর

বার্নহ্যামের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাজ্যে £২০,০৭০ পর্যন্ত টাক্স-ফ্রি ইনকামের সুযোগ, নিশ্চিত করলো HMRC

16351_1234.jpg

যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডেই রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও আগামী বাজেটে এই সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে বাড়ির অতিরিক্ত একটি ঘর ভাড়া দিয়ে নির্দিষ্ট শর্তে করমুক্ত আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে দেশটির বাসিন্দাদের জন্য।

যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের ‘রেন্ট আ রুম’ স্কিমের আওতায় নিজের বসবাসের বাড়ির একটি সজ্জিত ঘর ভাড়া দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত ভাড়া আয় করমুক্ত রাখা যায়। ফলে কারও ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সঙ্গে এই ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ডের ভাড়া আয় যুক্ত হলে মোট ২০ হাজার ৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত হতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে একজন ব্যক্তির সাধারণ ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড। অর্থাৎ এই সীমা পর্যন্ত আয় সাধারণত আয়করের আওতায় পড়ে না। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকায় করদাতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
মেকারফিল্ড আসনের এমপি অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এর আগে ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডে আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এখন তার নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, এই সীমা বাড়ানো আপাতত সরকারের অগ্রাধিকার নয়।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা বাড়ানো বেশ ব্যয়বহুল হবে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, সীমাটি বাড়ালে সরকারের বছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তাই আগামী বাজেটে এ বিষয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

তবে যারা নিজের বাড়িতে অতিরিক্ত একটি ঘর ভাড়া দিতে পারেন, তাদের জন্য ‘রেন্ট আ রুম’ স্কিমটি বাড়তি আয়ের একটি বৈধ সুযোগ তৈরি করে। এই স্কিমের আওতায় নিজের প্রধান বসতবাড়ির একটি সজ্জিত ঘর ভাড়া দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা যায়। মাসিক হিসাবে এই পরিমাণ ৬২৫ পাউন্ড।

ধরা যাক, কেউ নিজের বাড়ির একটি ঘর ভাড়া দিয়ে মাসে ৬২৫ পাউন্ড আয় করছেন। তাহলে বছরে তার ভাড়া থেকে আয় হবে ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড। স্কিমের নিয়ম মেনে চললে এই পুরো অর্থের ওপর আয়কর দিতে হবে না। এর সঙ্গে তার সাধারণ ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা যোগ হলে মোট ২০ হাজার ৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ২০ হাজার ৭০ পাউন্ড সবার জন্য আলাদা কোনো নতুন করমুক্ত সীমা নয়। বরং ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা এবং ‘রেন্ট আ রুম’ স্কিমের আওতায় পাওয়া সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড করমুক্ত ভাড়া আয়—এই দুই সুবিধা মিলিয়ে এই পরিমাণ দাঁড়ায়।

‘রেন্ট আ রুম’ স্কিম ব্যবহার করতে হলে ভাড়া দেওয়া ঘরটি অবশ্যই সেই বাড়িতে হতে হবে যেখানে বাড়ির মালিক নিজে বসবাস করেন। ঘরটি সজ্জিত হতে হবে এবং এটি নিজের প্রধান বসতবাড়ির অংশ হতে হবে। বিনিয়োগের জন্য কেনা বাড়ি বা শুধু ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাখা কোনো সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

যদি কোনো বাড়ির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির নামে থাকে, যেমন স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে বাড়ির মালিক হলে, ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ডের করমুক্ত সীমা দুজনের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ভাড়া আয় করমুক্ত রাখতে পারেন।

তবে ঘর ভাড়া দিয়ে বছরে ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বেশি আয় হলে অতিরিক্ত অর্থের ওপর কর দিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে করদাতা চাইলে ‘রেন্ট আ রুম’ স্কিমের পরিবর্তে সাধারণ সম্পত্তি-আয় কর ব্যবস্থার অধীনে আয় হিসাব করতে পারেন। এতে ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অনুমোদিত খরচ বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কার জন্য কোন পদ্ধতিটি বেশি সুবিধাজনক, তা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা আপাতত বাড়ছে না। কিন্তু নিজের বসবাসের বাড়ির একটি অতিরিক্ত ঘর ভাড়া দেওয়ার সুযোগ থাকলে ‘রেন্ট আ রুম’ স্কিমের মাধ্যমে বছরে আরও ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত ভাড়া আয় করমুক্ত রাখা সম্ভব। ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমার সঙ্গে এই সুবিধা মিলিয়ে যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত হতে পারে। তবে এই সুবিধা নিতে হলে অবশ্যই স্কিমের নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও