যুক্তরাজ্য

Mirror
১১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৮
আরও খবর

টকশোতে অতিথির বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জিবি নিউজের বিরুদ্ধে তদন্তে অফকম!

16356_GBN_LOGO_MASTER_TAG_RGB_1.jpeg

প্রাইড প্যারেডকে ‘পশুর সঙ্গে যৌনতা’ ও ‘শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের’ সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করার অভিযোগে জিবি নিউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেনের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওফকম। ঘটনাটি নিয়ে ১২ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের একটি অনুষ্ঠানে অতিথির বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওফকম। গত ৫ জুলাই প্রচারিত ওই অনুষ্ঠান নিয়ে ওফকমের কাছে ১২ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ক্যাথলিক মিডিয়া ভাষ্যকার ক্যারোলিন ফ্যারো দাবি করেন, প্রাইড প্যারেড শুধু সমকামীদের অধিকারের বিষয় নয়। তার দাবি, এর সঙ্গে বিষমকামী যৌনতার বাইরে বিভিন্ন ধরনের যৌন আচরণ ও প্রবণতা উদযাপনের বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ফারি’, পশুর সঙ্গে যৌনতা এবং নিজেদের ‘শিশু-আকর্ষিত’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তার এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি মন্তব্যগুলোকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দেন। রুপলের ড্র্যাগ রেস ইউকের তারকা বিমিনিসহ আরও অনেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং জিবি নিউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওফকমের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং সরাসরি সম্প্রচারের সময় ফ্যারোর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, গত বছর নিজে প্রাইড অনুষ্ঠানে গিয়ে জিবি নিউজের জন্য প্রতিবেদন করেছিলেন। তার অভিজ্ঞতায়, সেখানে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই ইতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। প্রাইড অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিশু যৌন নির্যাতনকারী উপস্থিত ছিল; এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

পরে আরেকটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে আবারও কথা বলেন আর্মস্ট্রং। তিনি বলেন, অতিথির মন্তব্যে সমকামী প্রাইডকে শিশু যৌন নির্যাতনের উদযাপনের সঙ্গে এক করে দেখানো হয়েছে। তার মতে, সমকামী মানুষদের হেয় ও অপমান করার জন্য বহু বছর ধরে এ ধরনের ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাইড অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি নিজে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেননি বলেও জানান।

অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক দর্শক মন্তব্যগুলোকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের মন্তব্য কীভাবে একটি নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ পেল।

এর মধ্যে জিবি নিউজ অনুষ্ঠানটির ভিডিওগুলো তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে নেয়। এর আগে চ্যানেলটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিতর্কিত মন্তব্যগুলো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একজন অতিথির ব্যক্তিগত মতামত এবং এগুলো জিবি নিউজের নিজস্ব মতাদর্শ বা সম্পাদকীয় অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। চ্যানেলটির দাবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য দুই ব্যক্তি ওই মন্তব্যকে জোরালোভাবে এবং একাধিকবার চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

ওফকমের তদন্তের বিষয়ে জিবি নিউজ আরও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ‘সমন্বিত প্রচারণার’ অংশ হিসেবেই এসব তদন্ত সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে তারা ওফকমের সম্প্রচার বিধিমালা মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দেয় এবং বিধিমালা অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।

জিবি নিউজ নিজেদের ব্রিটেনের ‘নম্বর ওয়ান নিউজ চ্যানেল’ বলেও দাবি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওফকমের এই তদন্তের বিরুদ্ধে তারা ‘জোরালোভাবে’ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।

এখন ওফকমের তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে। তদন্তে সম্প্রচার বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জিবি নিউজের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও