
যুক্তরাজ্যে শীতকালীন জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে যোগ্য পরিবারগুলোকে £১৫০ পর্যন্ত সহায়তা দেবে সরকার। ‘ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্ট’ (Warm Home Discount) স্কিমের আওতায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে এই অর্থ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। নতুন মৌসুমের জন্য স্কিমটি আগামী অক্টোবর থেকে চালু হবে এবং যোগ্য পরিবারগুলো ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই সুবিধা পাবে।
তবে এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তার সঙ্গী অথবা আইনগত প্রতিনিধির নাম বিদ্যুৎ অ্যাকাউন্ট বা বিলে থাকতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিদের বেশিরভাগই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ছাড় পাবেন।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হাউজিং বেনিফিট, আয়ভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাওয়েন্স (ESA), আয়ভিত্তিক জবসিকার্স অ্যালাওয়েন্স (JSA), ইনকাম সাপোর্ট, পেনশন ক্রেডিট এবং ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারীরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। স্কটল্যান্ডেও অধিকাংশ যোগ্য পরিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাবে, যদিও সেখানে কিছু অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য।
যোগ্য পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে £১৫০ সাধারণত নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হবে না। বরং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করা হবে। স্ট্যান্ডার্ড ক্রেডিট বা স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেডিট যোগ হবে। অন্যদিকে পুরোনো ধরনের প্রিপেমেন্ট মিটার ব্যবহারকারীরা ডাক, ই-মেইল বা টেক্সটের মাধ্যমে ভাউচার পেতে পারেন।
ইংল্যান্ড, ওয়েলস বা স্কটল্যান্ডে স্থায়ীভাবে পার্ক হোমে বসবাসকারীদের অনেকেরই সরাসরি কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাকাউন্ট থাকে না। তবুও তারা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
পার্ক হোমে বসবাসকারী যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে £১৫০ পেতে পারেন। এই স্কিমটি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে পরিচালনা করছে চ্যারিটি সংস্থা চারিস গ্রান্টস (Charis Grants)।
এই স্কিমের আবেদন প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হবে। তবে আগ্রহীরা আগে থেকেই নিবন্ধন করতে পারবেন। যেহেতু তহবিল সীমিত এবং আবেদনগুলো ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে, তাই যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পার্ক হোমে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী যাদের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় কর ও অন্যান্য কর্তন বাদ দেওয়ার আগে £২১,০৯১-এর কম, তারা এই সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। এছাড়া ইনকাম সাপোর্ট, আয়ভিত্তিক জবসিকার্স অ্যালাওয়েন্স, আয়ভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাওয়েন্স, পেনশন ক্রেডিট, নির্দিষ্ট শর্তে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এবং হাউজিং বেনিফিট গ্রহণকারীরাও আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের সময় প্রাপ্ত সরকারি সুবিধার তথ্য এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আয়ের তথ্য জমা দিতে হবে।
যোগ্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক বা বিল্ডিং সোসাইটি অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর চারিস গ্রান্টস ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে £১৫০ জমা করবে।
সরকার জানিয়েছে, ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্টের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ডাকযোগে সরকারি চিঠি পাঠানো হবে। কিন্তু ই-মেইল, ফোনকল বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য চাওয়া হলে তা প্রতারণা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা ব্যাংক তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। চিঠির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি হেল্পলাইনের মাধ্যমে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্টের পাশাপাশি অনেক পরিবার উইন্টার ফুয়েল পেমেন্টের আওতায় £৩০০ পর্যন্ত অতিরিক্ত সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোল্ড ওয়েদার পেমেন্টও দেওয়া হতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি ডেবিটের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি কম খরচের ট্যারিফে পরিবর্তন করলে বছরে কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। যারা বিল পরিশোধে সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে।
সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চলতি শীতে লাখো পরিবার তাদের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা হলেও কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।