যুক্তরাজ্য

MSE
১২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে গাড়ির ইন্সুরেন্সের দাম ৩০% কমেছে, তবুও একটি ভুলে বাড়তি টাকা গুনছেন না তো?

16366_car-insurance-guide-for-new-drivers-featured.jpeg

যুক্তরাজ্যে গাড়ির ইন্সুরেন্সের দাম ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে বাজারে দাম কমে গেলেও পুরনো ইন্সুরেন্স পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করলে চালকদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ভোক্তা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গাড়ির ইন্সুরেন্স রিনিউয়ালের সময় শুধু বর্তমান বীমাকারীর দেওয়া কোট গ্রহণ না করে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দামও যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে পলিসি শেষ হওয়ার প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে নতুন কোট খুঁজলে তুলনামূলক কম দামে বীমা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

গত প্রায় তিন বছরে নতুন গ্রাহকদের জন্য গাড়ির ইন্সুরেন্সের গড় মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন বদলাতে শুরু করতে পারে। ডেফাক্টোর বিশ্লেষণে বীমার দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংও মনে করছে, আগামী আরও দুই বছর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

যাদের গত বছরে কোনো দুর্ঘটনা বা ক্লেইম নেই এবং ব্যক্তিগত তথ্যেও বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি, তারা নতুন গ্রাহক হিসেবে গত বছরের তুলনায় কম দামে ইন্সুরেন্স পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তাই রিনিউয়াল কোট আগের বছরের মতোই থাকলে সেটিকে ভালো দাম ধরে নেওয়া উচিত নয়।

যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে রিনিউয়াল গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন গ্রাহকের তুলনায় বেশি দাম নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের প্রতি বছর বেশি দাম দিয়ে বীমা কিনতে বাধ্য করার পুরনো ‘প্রাইস-ওয়াক’ পদ্ধতি বন্ধ করা।

তবে এই নিয়ম থাকলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বীমা নবায়ন করা সবসময় সবচেয়ে সস্তা বিকল্প নয়। কারণ ইন্সুরেন্সের মূল্য নির্ধারণে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পলিসি কেনা হচ্ছে, গ্রাহকের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের মূল্য নির্ধারণের কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই ইন্সুরেন্স কোম্পানির একাধিক ব্র্যান্ড থাকলেও সব ব্র্যান্ডে একই দামের প্রস্তাব নাও থাকতে পারে। ফলে বর্তমান বীমাকারীর রিনিউয়াল কোটের চেয়ে অন্য কোনো ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের নতুন গ্রাহক কোট কম হতে পারে।

এক গ্রাহক জানান, সাত বছর একই বীমা কোম্পানির সঙ্গে থাকার পরও কোনো দাবি না করা সত্ত্বেও তার রিনিউয়াল কোট প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বেড়ে যায়। পরে অন্য কোট যাচাই করে তিনি আগের রিনিউয়াল দামের তুলনায় ২ হাজার ৬৫ পাউন্ড সাশ্রয় করেন।

আরেক ১৮ বছর বয়সি শিক্ষানবিশের অভিজ্ঞতাও দেখায়, বীমা কোম্পানির সঙ্গে দর-কষাকষি করে উল্লেখযোগ্য অর্থ বাঁচানো সম্ভব। দ্বিতীয় বছরের গাড়ির বীমার জন্য প্রথমে তাকে ৭৪০ পাউন্ডের কোট দেওয়া হয়েছিল। পরে মাত্র ১৩ মিনিট ফোনে আলোচনা করার পর তিনি সেটি কমিয়ে ৪৮০ পাউন্ডে আনতে সক্ষম হন। অর্থাৎ তিনি ২৬০ পাউন্ড সাশ্রয় করেন।

বর্তমান বীমাকারীর সেবায় সন্তুষ্ট হলেও অন্য কোনো কোম্পানি কম দাম দিলে সেই কোট দেখিয়ে বর্তমান প্রতিষ্ঠানকে দাম কমানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। রিনিউয়ালের কাছাকাছি সময়ে এই আলোচনা করলে গ্রাহক হারানোর সম্ভাবনা থাকায় বীমাকারী ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী হতে পারে।

তবে শুধু মুখে অন্য কোম্পানির কম দাম বলার পরিবর্তে বাস্তবে পাওয়া একটি কোট হাতে রাখা ভালো। এরপর ভদ্রভাবে বর্তমান বীমাকারীকে সেই দাম মেলানো বা আরও কমানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। প্রথম প্রস্তাবেই রাজি না হয়ে প্রয়োজনে আরও আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অ্যাডমিরাল, এএ এবং হেস্টিংস ডাইরেক্টের যেসব গ্রাহক বীমার দাম নিয়ে দর-কষাকষি করেছিলেন, তাদের ৮০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন যে তারা কোনো না কোনোভাবে সফল হয়েছেন।

তবে সবচেয়ে কম দামের বীমা বেছে নেওয়ার আগে পলিসিতে কী কী সুবিধা রয়েছে এবং কোন বিষয়গুলো কভার করা হচ্ছে তা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। দুর্ঘটনা, গাড়ি চুরি, ক্ষয়ক্ষতি, বিকল্প গাড়ি বা অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে পলিসিভেদে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।

বীমা কেনার আগে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি বা এফসিএ-এর নিয়ন্ত্রণাধীন কি না, সেটিও নিশ্চিত করা উচিত। কোনো গ্রাহক মনে করলে যে তাকে অন্যায়ভাবে বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বা প্রাপ্য অর্থের তুলনায় কম ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তাহলে বিনামূল্যে ফাইন্যান্সিয়াল ওম্বাডসম্যান সার্ভিসে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

তাই গাড়ির বীমা রিনিউয়ালের সময় শুধু অটো-রিনিউ বেছে নিয়ে নিশ্চিন্ত না থেকে বাজারে একই কভারেজের জন্য অন্য কোম্পানিগুলো কত দাম নিচ্ছে, তা যাচাই করাই হতে পারে অর্থ সাশ্রয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের কারণে বীমা রিনিউয়ালের ব্যস্ততা বাড়তে পারে। আগামী মাসে পলিসি শেষ হলে এখনই নতুন কোট যাচাই করে নেওয়াই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও