রাজনীতি

মন্ত্রিত্ব ও বিএনপির মহাসচিব পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

16375_IMG_8131.jpeg

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে দলটি। তাই মন্ত্রিত্ব ও দলীয় মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠকে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

রিজভী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

বিএনপি ও সরকারের সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ এবং বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়েছেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সচিবালয় তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব করা হয়। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের পুরো সময়জুড়েই তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের সময়ে নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও