আন্তর্জাতিক

মা ও ভাইকে হত্যা করলো ১৭ বছর বয়সী ভারতীয় কিশোর, চ্যাটজিপিটিতে পরিবার হত্যার বিষয়ে সার্চের অভিযোগ!

16401_IMG_8357.jpeg

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে মা ও ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই কিশোর চ্যাটজিপিটিতে পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিষয়ে সার্চ করেছিল। হত্যার পর সে মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ২ হাজার ডলারের সিরিয়াল ও এনার্জি বার কিনেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অরজুন আরাভিন্দকে বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেসান এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ আরাভিন্দকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার অ্যাক্টনের মার্থা লেনের পারিবারিক বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অরজুন তার কর্মস্থল স্টপ অ্যান্ড শপে যায় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ সিরিয়াল ও এনার্জি বার কেনে। তদন্তকারীদের ধারণা, সে এসব পণ্য পরে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল। কেনাকাটায় যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়, সেটি তার মায়ের বলে পুলিশ মনে করছে।

প্রসিকিউটরদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর অরজুন পরিবারের ২০১৪ সালের হোন্ডা অ্যাকর্ড নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বুধবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়িটির ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। গাড়ি থেকে সিরিয়াল বার, বাড়ির বিছানাপত্র, একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং তার মায়ের পার্স উদ্ধার করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

পুলিশের কাছে অরজুনের বাবা সুকুমারান আরাভিন্দ জানিয়েছেন, ছেলের সাম্প্রতিক ইন্টারনেট কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন ছিল। তার দাবি, অরজুন চ্যাটজিপিটিতে পরিবারকে হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন তাত্ত্বিক ধারণা ও কল্পনা নিয়ে সার্চ করেছিল। এ কারণে পরিবার তার কাছ থেকে ছুরি লুকিয়ে রেখেছিল বলেও পুলিশকে জানান তিনি।

তদন্তকারীদের আরও দাবি, হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল ৮টার কিছু আগে অরজুন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বাবা-মাকে হত্যার একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে সে ‘মাকে হত্যা’ সংক্রান্ত আরেকটি সার্চ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অরজুনের বাবা পুলিশকে ফোন করে পরিবারের বাড়িতে কল্যাণ যাচাইয়ের অনুরোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে একজন গৃহশিক্ষক বাড়িতে এসে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে জানান।

পুলিশ বাড়িতে গিয়ে অরজুনের ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে বেসমেন্টের দিকে যাওয়ার সিঁড়ির কাছে এবং তার মা সুধাকে বেসমেন্টে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের শরীরেই ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সিদ্ধার্থের মাথায় গুরুতর আঘাত এবং সুধার মাথা, মুখ ও পেটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে রক্তমাখা একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করেন। পুলিশের ধারণা, হামলার সময় এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অরজুনের দুই হাতে কাটা দাগ, ডান হাতে ফোলা এবং হাত ও পায়ের তলায় সম্ভাব্য রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায় বলেও পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অরজুনের আইনজীবী ডেবরা ডিউইট বলেছেন, আদালতে আলোচিত কথিত চ্যাটজিপিটি সার্চ বা পোস্ট তিনি আগে দেখেননি এবং শুনানির আগে এসব তথ্য তাকে জানানো হয়নি। সিরিয়াল বার কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, তার জানা অনুযায়ী অরজুন দোকানে গিয়ে কিছু খাবার কিনেছিল। আইনজীবীর দাবি, বাড়িতে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং অরজুন বাড়ি ছাড়ার সময় পরিবারের সদস্যরা মারা গেছেন বলে সে জানত না।

আদালতে অরজুনের পক্ষে নির্দোষ দাবি করা হয়েছে। তাকে জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।


 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও