
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম, ২৪ বছরের কম বয়সী নতুন চালকদের জন্য থাকছে রাতের যাত্রী বহনে বিশেষ বিধিনিষেধ
উত্তর আয়ারল্যান্ডে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে চালু হচ্ছে ‘গ্র্যাজুয়েটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স’ বা ধাপে ধাপে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থা। নতুন নিয়মে বিশেষ করে তরুণ ও নতুন চালকদের জন্য বেশ কিছু অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অবকাঠামো বিভাগ জানিয়েছে, গত ৭০ বছরের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় এটি অন্যতম বড় পরিবর্তন। নতুন নিয়ম সম্পর্কে চালকদের সচেতন করতে ইতোমধ্যে টেলিভিশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বাস ও সড়কের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘রোড রেডি’ প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষানবিশ চালকদের ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার আগে অন্তত ছয় মাস শেখার বাধ্যতামূলক সময় পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ একজন প্রশিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক চালকের মাধ্যমে সম্পন্ন ও স্বাক্ষরিত হতে হবে।
তবে নতুন নিয়মে শিক্ষানবিশ ও সদ্য লাইসেন্স পাওয়া চালকদের জন্য বর্তমানে থাকা ঘণ্টায় ৪৫ মাইল গতিসীমা তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন চালকদের জন্য বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৪ মাস করা হবে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ২৪ বছরের কম বয়সী নতুন চালকদের রাতের বেলায় যাত্রী বহনের ওপর বিধিনিষেধ। ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস করার পর প্রথম ছয় মাসে রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সী সর্বোচ্চ একজন যাত্রী বহন করা যাবে।
তবে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। চালকের নিকট পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া সামনের আসনে ২১ বছরের বেশি বয়সী এমন একজন যাত্রী বসতে পারবেন, যার অন্তত তিন বছরের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
নতুন নিয়মের পেছনে তরুণ চালকদের সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি ঝুঁকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ বছর বয়সী চালকদের দায়ী করা দুর্ঘটনায় ১৬৪ জন নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। অথচ এই বয়সী চালকেরা মোট লাইসেন্সধারীদের মাত্র ৮ শতাংশ হলেও প্রাণঘাতী বা গুরুতর দুর্ঘটনার ২৪ শতাংশের সঙ্গে এই বয়সী চালকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের অবকাঠামোমন্ত্রী লিজ কিমিন্স বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। তার মতে, ড্রাইভিং শেখার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করা নয়; বরং নিরাপদ চালক তৈরি করা।
তিনি বলেন, নতুন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালকদের মানুষের আচরণ, ব্যক্তিত্ব, মনোভাব ও অনুভূতি কীভাবে গাড়ি চালানোর ধরনকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে নতুন চালকেরা ড্রাইভিং পরীক্ষা এবং পরীক্ষা পাস করার পরের প্রাথমিক সময়ের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এসব পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে।