রাজনীতি

মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ঘুষ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়: লায়ন আসলাম চৌধুরী

16529_IMG_9148.jpeg

‘প্রশাসন যদি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা বা ঘুষ নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়’—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারের এল কে সিদ্দিক স্কয়ার এলাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো এ সমাবেশের আয়োজন করে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ ছড়িয়ে পড়ে। 

আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসন যদি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা বা ঘুষ নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অনতিবিলম্বে চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো জনগণ তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের মাটিতে কোনো অন্যায়, চাঁদাবাজি ও অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ দোকানদার বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার কিংবা চাঁদাবাজি করলে বিএনপিতে তাদের স্থান হবে না।

আসলাম চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী চাঁদাবাজ ও অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পৌর বিএনপি সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেন।

সমাবেশে তিনি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সমাবেশে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার বলেন, বর্তমানে উপজেলা বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটিকে পর্যায়ক্রমে ১০১ সদস্যের এবং পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে ত্যাগী ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।

পরে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে আসলাম চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘কার কাছ থেকে নেয়, কাকে ইঙ্গিত করে বলেছি, তার সম্পূর্ণরূপে পুরো বক্তব্যে বলা হয়েছে। এর বাইরে আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন মনে করি না। আপনাদের বোঝার স্বার্থে পুরো বক্তব্যটা আমি ব্যাখ্যা করেছি।’

এবিষয়ে মন্তব্য জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। 

সমাবেশে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্য সচিব মো. মোরসালিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব ছালেহ আহমেদ সলু, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাহাবউদ্দীন রাজুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের, ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলের সভাপতি-সম্পাদক ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও