যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯
আরও খবর

ভাগ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, চুক্তি সম্পন্ন!

16610_87de4a1c01734c1ca29878bd6a2398a7_15-2.jpg

যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে একজোট হয়েছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতারা। স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার জানিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন তিন দেশের শীর্ষ নেতারা। চুক্তির পর তারা ঘোষণা দিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামই হতে পারেন যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসি বলছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্কটল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দল এসএনপির নেতা জন সুইনি, ওয়েলসের প্লেইড কাইম্রুর নেতা রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও'নিল এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের সময় ফুরিয়ে আসছে’ এবং ‘সাংবিধানিক পরিবর্তন আসছে’। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার গণভোট আয়োজনের অনুমতি দিতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের নেতা জন সুইনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্কটল্যান্ডে অবশ্যই স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন করতে হবে। আবার ভোট হলে স্কটল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষেই রায় দেবে বলেও দাবি করেন তিনি।

সুইনি বলেন, স্কটল্যান্ডের মানুষকে স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া হলে তারা সেই পথই বেছে নেবে। জনমত জরিপের তথ্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে শুধু বাধার মুখেই পড়েছে।

তবে বৈঠকে নেতারা নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, দলীয় নেতা হিসেবে অংশ নেন। সেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তারা।


চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে এমন নেতারা রয়েছেন, যারা প্রত্যেকেই যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের দাবি, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনও অনিবার্য।

তিন নেতা আরও বলেন, তাদের জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্রিটিশ সরকারেরই গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া বা জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অধিকার নেই।

তবে তারা স্বীকার করেছেন, তিন দলের সাংবিধানিক অবস্থান এক নয়। প্রতিটি দেশ নিজেদের পদ্ধতি ও নিজেদের সময়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে অ্যান্ডি বার্নহাম অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পর্যটন কর চালুর বিষয়টিও ছিল।

তবে তিন নেতার চুক্তির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক বিতর্কে সময় নষ্ট না করে বার্নহাম দেশের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের চারটি জাতিতেই পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি যুক্তরাজ্যের ঐক্যে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। বিভাজনের পরিবর্তে অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। 

এদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও'নিল বলেছেন, আইরিশ ঐক্যের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে এই বিতর্ক এখন জোরালোভাবে চলছে। ব্রিটিশ সরকার এই পরিবর্তনের ধারা থামিয়ে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিন সফরের সময় ট্রাম্প একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। ও'নিলের মতে, এর মধ্য দিয়ে আয়ারল্যান্ডের মানুষের জন্য সম্ভাব্য বড় অর্জন নিয়ে ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বিভাজনের অবসান ও একটি নতুন আয়ারল্যান্ডের সূচনা।

এর এক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বার্নহাম ভুলবশত মন্তব্য করেছিলেন, স্কটিশ পার্লামেন্ট নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন করা হবে। সেই মন্তব্যের পরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও