
যুক্তরাজ্যের সাফোকের ব্রান্থামে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু নোয়া উডসের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির সন্ধানে জরুরি সেবাদাতা সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীসহ প্রায় এক হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো নোয়ার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নোয়া একজন কথা বলতে অক্ষম এবং আংশিক শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু। গতকাল বিকেলে ব্রান্থামের একটি খেলার মাঠের কাছে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মেরিয়াম ক্লোজের খেলার মাঠ থেকে বের হয়ে একটি গলিপথ ধরে নতুন নির্মিত একটি আবাসিক এলাকার দিকে চলে যায় সে।
নোয়ার বাবা রিস উডস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক হৃদয়ছোঁয়া বার্তায় ছেলেকে খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি তল্লাশি বন্ধ না করার জন্য সবার প্রতি আকুল আবেদন জানান।
তিনি বলেন, ‘ও একা বাইরে কোথাও আছে; এই চিন্তা নিয়ে আমি আরেকটি রাত কাটাতে পারব না। দয়া করে ওর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না। ও কোথাও না কোথাও আছে। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
রিস উডস জানান, এখনো তারা কোনো সন্ধান পাননি। তবে নোয়ারকে খুঁজতে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ স্থানীয় সম্প্রদায়ের ঐক্য ও মানবিকতার শক্তি দেখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জরুরি সেবাদাতা সংস্থাগুলো ডেকয় পুকুর ও রেললাইনসহ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে এবং এসব এলাকা এখন নিরাপদ বলে মনে করছে। তাই নোয়াকে চেনেন এমন মানুষদের কথা বিবেচনা করে আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানোর জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নোয়া নিখোঁজ হওয়ার সময় সাদা রঙের ‘ব্লুয়ি’ লেখা টি-শার্ট, শর্টস এবং সাদা দাগযুক্ত কালো স্পোর্টস জুতা পরেছিল। তার শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নাম ধরে ডাকলেও সে সাড়া নাও দিতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাতভর পুলিশের তল্লাশি চলার পর আজও উচ্চদৃশ্যমান পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে নেমেছেন। আকাশে একটি হেলিকপ্টারও তল্লাশি অভিযানে অংশ নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ির বাগান, শেড, গ্যারেজ ও অন্যান্য স্থাপনা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রান্থাম প্যারিশের ক্লার্ক সারাহ কিজ জানান, নোয়াকে খুঁজে বের করতে পুরো গ্রাম কার্যত এক হয়ে গেছে। জরুরি সেবাদাতা সংস্থার পাশাপাশি ন্যাশনাল পুলিশ এয়ার সার্ভিস, এইচএম কোস্টগার্ড এবং সাফোক লোল্যান্ড সার্চ অ্যান্ড রেসকিউসহ বিভিন্ন সংস্থা অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার মানুষ তল্লাশিতে যুক্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রামের অধিকাংশ এলাকা ইতোমধ্যে তল্লাশি করা হয়েছে। এখন মানুষের আরও বেশি করে পায়ে হেঁটে এলাকায় ঘুরে নোয়ারকে খুঁজতে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাফোক পুলিশ এক বিবৃতিতে জনগণের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, নোয়াকে ঘিরে মানুষের উদ্বেগ ও সহায়তার প্রস্তাব বিপুল পরিমাণে এসেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থা তল্লাশিতে যুক্ত থাকায় সবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও পুলিশ জানিয়েছে। নোয়ারের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে, নোয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুটিকে কেউ দেখে থাকলে বা তার নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো সন্দেহজনক বিষয় লক্ষ্য করলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।