
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান হচ্ছিল না, সন্তানের আশায় মানত দিতে মৈনট যেতে রওনা হন আঁখি আক্তার, তার স্বামী, বাবা, বোন, এক ভাগ্ন ও ভাগ্নী। তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঢাকার ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী এলাকায় পৌঁছালে অপরদিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা পিক-আপ ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তিনজন জ্ঞান হারান। আহত হন বাকিরাও। হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান আঁখি, তার বড় ভাগ্নে ও অটোরিকশার চালক।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অটোরিকশার চালক জুয়েল (৪০), আখি (৩০) ও জাকারিয়া (১২)। নিহতরা সবাই টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে নিহত আখি নিহত জাকারিয়ার খালা। আহতরা হলেন- লাকী আক্তার (৩২), আবুল হোসেন (৬৫), সেলিম (৩৫) ও লাকী আক্তারের শিশু কন্যা সাদিয়া (৫)।
এক মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে আহাজারি করছিলেন দুর্ঘটনায় আহত ষাটোর্ধ মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা যামু মৈনট, আমার জামাই মেয়ে নিয়া যামু পীর বাড়ি। হেই সুম এরকম হইলো। জামাই সামনে ড্রাইভারের পাশে বাম সাইডে বইছে। ডাইন সাইডে খালি। হঠাৎ কইরা সামনে থেকে আইলো গাড়িডা।’’
তিনি জানান, তার ছোট মেয়ের সন্তান হচ্ছিল না। আর বড় মেয়ে মানত করে মেয়ে হয়েছে। সেই নাতনির মানত পূরণ করতে ও ছোট মেয়ের জন্য মানত করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন তার সব শেষ। বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। তবে আমরা নিঃসন্তান। আমরা মৈনট পীর বাড়ি যাচ্ছিলাম। আমরা গাড়িতে ছয়জন ছিলাম। আমরা স্ত্রী ও তার বড় ভাগ্নে মারা গেছে।’’
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে নান্দেশ্বরী বটতলা আরবিসি ব্রিকস সংলগ্ন পাকা সড়কে কালামপুরগামী অটোরিকশা ও সাটুরিয়াগামী অজ্ঞাতনামা পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। সিএনজিচালকসহ চারজন গুরুতর আহত হয়। আহতদের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘‘দুপুর ২টার দিকে তাদের নিয়ে আসা হয়। তিনজন অজ্ঞান ছিল। রক্তপাত হচ্ছিল। পরে আঁখিকে রেফার করি। বাকি দুজনকে চিকিৎসা দেই। প্রায় ১০ মিনিট পর দুজনের মৃত্যু হয়। আর আঁখিকে ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।’’
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও পুলিশ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।
ধামরাই থানা কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনাজনিত আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।