
যুক্তরাজ্য তার বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুদ্ধঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তাঁর দাবি, ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখন রাশিয়া ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলন শুরুর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিটিং বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবং রুশ প্রেসিডেন্টের কথিত ‘সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়া নিয়মিতভাবে ব্রিটেন, ন্যাটো এবং তাদের মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরীক্ষা করছে।
স্ট্রিটিং বলেন, ইউরোপে যুদ্ধ চলছে এবং এই পরিস্থিতিতে তাঁর জীবদ্দশায় যুক্তরাজ্য এর আগে কখনো এত বড় যুদ্ধঝুঁকির মুখোমুখি হয়নি। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ব্রিটেনকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শীতল যুদ্ধের অবসানের পর সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের অংশ। তাঁর যুক্তি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণ থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার ফলে স্কুল, হাসপাতালসহ অন্যান্য জনসেবায় ব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
স্ট্রিটিং ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং কিছু নগদ অর্থ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁর বার্তা ছিল, মানুষকে ‘সতর্ক’ থাকতে হবে, ‘আতঙ্কিত’ নয়।
তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর ব্রিটেন ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনও ড্রোন যুদ্ধসহ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ব্রিটেন ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তাও অব্যাহত রেখেছে। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন ইউক্রেনের জন্য ১০ কোটি পাউন্ডের একটি বিমান প্রতিরক্ষা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যের সরকারি ন্যাশনাল রিস্ক রেজিস্টার ২০২৬-এ দেশের সম্ভাব্য গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যটি মূলত বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে।
সূত্র: যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, GOV.UK এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।