বাংলাদেশ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরকে ‘মৌলবাদীদের’ কাজ বললেন ময়ূখরঞ্জন

16942_সালমান-0de7eb-720x405.jpeg

ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশেই নয়, ওপার বাংলাতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভারতের কলকাতার সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ময়ূখ তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সালমানের স্টুডিওটির প্রশংসা করে লেখেন, স্টুডিওটির সেট ডিজাইন তার খুব পছন্দ হয়েছিল এবং ঢাকায় না হয়ে কলকাতায় হলে তিনি নিজেই সেটি ভাড়ার জন্য নিতেন। তবে তিনি এই হামলার দায় সরাসরি ‘মৌলবাদীদের’ ওপর চাপিয়েছেন। পোস্টে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিরিয়া বা লিবিয়া নয়, মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের ঢাকায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভীত। কলকাতায় এ ধরনের ‘মৌলবাদীদের’ সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে সেখানেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সবশেষে তিনি সালমানকে শক্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিয়েটর সমাজকে মুখ খোলার আহ্বান জানান।

প্রকৃত তথ্য না জেনে সালমানের পাশে দাঁড়িয়ে ময়ূখ যে মন্তব্য করেছেন, সেই মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে ভাঙচুরের ঘটনাটিকে সরাসরি ‘মৌলবাদীদের কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতায় বসে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন? তিনি কি স্থানীয় চাঁদাবাজদের মৌলবাদী বলতে চাইছেন, নাকি পুরো বাংলাদেশকেই মৌলবাদের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন?

কারণ, সালমান মুক্তাদির নিজেই জানিয়েছেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলা হয়েছে এবং তিনি এর পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইঙ্গিত করেছেন। পাশাপাশি, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও বলা হয়েছে, স্টুডিওর ভবনের মালিকের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ভাঙচুর। এখানে ধর্মীয় মৌলবাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কলকাতার একজন সাংবাদিকের এমন মন্তব্যকে স্থানীয় চাঁদাবাজি বা জমিজমার বিরোধকে ‘মৌলবাদ’ ট্যাগ দিয়ে দেশটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে যে রাজনৈতিক সমীকরণ বা ‘মৌলবাদ’ নিয়ে ভয়াবহতা চলছে, বাংলাদেশেও তা প্রমাণের জন্য একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কলকাতাই তো এখন মৌলবাদের ঘাঁটি। বিজেপি ক্ষমতায়। হিন্দু মৌলবাদীদের দ্বারা ক্রমাগত আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানরা। তা নিয়ে অবশ্য ময়ূখ মুখ খোলেন না।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সালমান মুক্তাদির ছিলেন সেই আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক। অন্যদিকে, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষকে সে সময় এই অভ্যুত্থানের বিরোধী অবস্থানে দেখা গিয়েছিল।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও