
যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোটরিং সংগঠন আরএসি (RAC) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ১৯৯ দশমিক ১৮ পেন্স, যা এর আগে কখনো এত বেশি ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাজ্যে এর প্রভাব পড়ছে।
ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রোলের দামও বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম ১৭৪ দশমিক ১৩ পেন্স। গত সাত মাসে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরএসি জানিয়েছে, ডিজেলের বর্তমান দাম সম্পূর্ণ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বের অন্য প্রান্তের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজার কতটা নির্ভরশীল, বর্তমান পরিস্থিতি তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৫৯ পেন্স বেড়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে ডিজেলের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২০২২ সালের জুনে, যখন প্রতি লিটার ১৯৯ দশমিক ০৯ পেন্সে উঠেছিল।
দাম বৃদ্ধির ফলে একটি সাধারণ পরিবারের গাড়ির ট্যাংক পুরোপুরি ডিজেলে ভরতে এখন প্রায় ১১০ পাউন্ড খরচ হচ্ছে, যা সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ পাউন্ড বেশি। অন্যদিকে, পেট্রোলের দাম একই সময়ের তুলনায় প্রতি লিটারে প্রায় ৪১ পেন্স বেড়েছে। তবে পেট্রোলের বর্তমান দাম এখনও ২০২২ সালের সর্বোচ্চ দামের নিচে রয়েছে।
আরএসি বিভিন্ন সুপারমার্কেট, মোটরওয়ে সার্ভিস স্টেশন এবং স্বতন্ত্র জ্বালানি বিক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া দামের ভিত্তিতে এই গড় হিসাব করেছে। সংস্থাটির নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস বলেছেন, ডিজেলের রেকর্ড দাম শুধু গাড়িচালকদের জন্যই নয়, ডিজেলচালিত লরি ও ভ্যানের ওপর নির্ভরশীল পণ্য ও সেবার ক্রেতাদের জন্যও বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তার মতে, পরিবহন ব্যয় বাড়লে সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও পড়বে।
আরএসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে কম না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পাম্পে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৮ ডলারের কাছাকাছি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার আগে তা প্রায় ৭৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত ডিজেলের সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
পেট্রোলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা বেশি জটিল। একই সঙ্গে পরিবহন খাত, বিশেষ করে লরি ও কৃষি খাতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় চাহিদা দ্রুত কমিয়ে আনা কঠিন। যুক্তরাজ্যও ডিজেলের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। দেশটির চারটি তেল শোধনাগার স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পেট্রোল উৎপাদন করতে পারলেও দেশের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত ডিজেল উৎপাদন করে না।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সড়কে ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যাও কমছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে দেশটির সড়কে ডিজেলচালিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ, যা এক বছর আগের ১ কোটি ৫৭ লাখের তুলনায় কম। এর মধ্যে ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৮ লাখ, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ।