যুক্তরাজ্য

Metro
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৯
আরও খবর

আগামী ৩ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে লন্ডনের ওয়াটারলু ব্রিজ

16987_SEI_314426528-81f6.jpg

লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী পারাপারের সেতু ওয়াটারলু ব্রিজ আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত না হলে সেতুটিতে ওজনসীমা আরোপ করা হতে পারে, এমনকি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের একটি অর্থায়নসংক্রান্ত নথি, যা ব্লুমবার্গের তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ওয়াটারলু ব্রিজের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে পানির কারণে ক্ষয়ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ ২ মিলিমিটার প্রশস্ত ফাটল শনাক্ত হয়েছে। সেতুটির প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য প্রায় ৬ মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছর শেষ হওয়ার মধ্যে অতিরিক্ত মেরামতকাজ সম্পন্ন না হলে সেতুটিতে ওজনসীমা আরোপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ওয়াটারলু ব্রিজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দক্ষিণ লন্ডনের সাউথ ব্যাংক এলাকা ও লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডকে যুক্ত করা ওয়াটারলু ব্রিজ রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত নদী পারাপারের পথ। দীর্ঘদিনের ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ এবং ভারী যান চলাচলের কারণে লন্ডনের বেশ কয়েকটি পুরোনো সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ওয়াটারলু ব্রিজের পাশাপাশি লন্ডনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ভক্সহল ব্রিজে ইতোমধ্যে ১৮ টনের বেশি ওজনের বড় বাণিজ্যিক যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এই বিধিনিষেধে প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহারকারী মোট যানবাহনের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ২০০টি যানবাহন প্রভাবিত হচ্ছে।

হ্যামারস্মিথ ব্রিজের পরিস্থিতিও লন্ডনের পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যাকে সামনে এনেছে। ২০১৯ সালে সেতুটির কাঠামোর কিছু অংশে ফাটল ধরা পড়ার পর গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়। বর্তমানে সেখানে পথচারী ও সাইকেল চলাচল করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হলেও অর্থায়নের জটিলতার কারণে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ভিক্টোরিয়ান আমলের আলবার্ট ব্রিজও চলতি বছর গাড়ি চলাচলের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। সেতুটিতে কাঠামোগত নড়াচড়া শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ হলে ২০২৭ সালে যান চলাচলের জন্য সেতুটি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

ওয়াটারলু ব্রিজ নিয়ে নতুন এই সতর্কতা লন্ডনের পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বর্তমানে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খোলা থাকলেও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে সতর্ক করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও