
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে লিজহোল্ড বাড়ির মালিকদের বাড়তি ফি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার। সরকারের পরিকল্পনায় প্রপার্টি এজেন্টদের জন্য একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি করা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ লিজহোল্ড প্রপার্টির মালিক। লিজহোল্ড ব্যবস্থায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পরও মালিকদের অনেক সময় কিছু কাজের জন্য ফ্রিহোল্ডার বা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। এসব অনুমতির জন্য তাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হতে পারে।
রেনার জানিয়েছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পোষা প্রাণী রাখার অনুমতির জন্য ২৫০ পাউন্ড এবং বাড়ির সামনের দরজা পরিবর্তনের জন্য ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তার মতে, এ ধরনের ফি বাড়ির মালিকদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে রেনার বলেন, সরকার প্রপার্টি এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন সংস্থা গঠনের জন্য আইন করবে। এস্টেট এজেন্ট, ম্যানেজিং এজেন্ট ও এস্টেট ম্যানেজাররা এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবেন।
নতুন ব্যবস্থায় প্রপার্টি এজেন্টদের লাইসেন্স নিতে হবে। তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং গ্রাহকদের অভিযোগ ঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো এজেন্টের লাইসেন্স বাতিলও করতে পারবে।
সরকার লিজহোল্ডারদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন অনুমোদন ও প্রশাসনিক ফিতেও সীমা দিতে চায়। বাড়িতে পরিবর্তন করা, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা অন্য কোনো অনুমতির জন্য কত টাকা নেওয়া যাবে, তা নির্ধারণে পরে একটি জনপরামর্শ করা হবে।
এর পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে লিজহোল্ডারদের বার্ষিক গ্রাউন্ড রেন্ট ২৫০ পাউন্ডে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নিয়ম ২০২৮ সালের শেষ দিকে কার্যকর হতে পারে।
লিজহোল্ড ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন লিজহোল্ড ফ্ল্যাট নির্মাণ বন্ধ করে কমনহোল্ড ব্যবস্থার দিকে যেতে চায়। এই ব্যবস্থায় একটি ভবনের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে ভবন ও সাধারণ জায়গাগুলো পরিচালনা করতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লিজহোল্ড প্রপার্টির মালিকদের বাড়তি ফি, প্রপার্টি ব্যবস্থাপনা এবং এজেন্টদের জবাবদিহির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ফি কত হবে এবং নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে কাজ করবে, তা পরবর্তী জনপরামর্শের পর চূড়ান্ত করা হবে।